আগস্ট থেকে টানা চার মাস ধরে কমছে রপ্তানি আয়। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, বৈশ্বিক টানাপোড়েন আর ট্রাম্প ট্যারিফের চাপে কাঙ্ক্ষিত বড়োদিন ঘিরে ক্রয়াদেশ আসেনি। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক আয়ে। পোশাকের বাইরে কৃষি, পাটসহ বেশকিছু খাতেও কমেছে রপ্তানি আয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, এই সঙ্কট কাটানো কঠিন হবে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অজুহাতে, বিশ্বব্যাপী পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রতিযোগিতায় নামেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে তালিকার ওপরের সারিতে ছিলো বাংলাদেশের নামও। তবে, শুরুর দিকে সেই হার স্বস্তিদায়ক মনে হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রপ্তানি আয়ে। কারণ, অতিরিক্ত ট্যারিফের কারণে দেশটিতে দাম বাড়ছে আমদানিপণ্যের। ফলে, কেনা কমিয়ে দিয়েছেন সে দেশের ক্রেতারা।
দেশীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড়ো উপলক্ষ ক্রিসমাস। প্রতিবছরই যা সামনে রেখে বাড়তি প্রস্তুতি থাকে কারখানাগুলোর। কিন্তু, স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ায়, আগের মতো ক্রয়াদেশ আসেনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিজিএমইএ’র হিসাবে, অর্থবছরের চার মাসে সে দেশে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। অথচ, আগের বছরগুলোতে যা ছিলো দুই অঙ্কের ওপরে।
বিজিএমইয়ের সিনিয়র সভাপতি এনামুল হক খান একাত্তরকে বলেন, এটা অনেকদিন ধরে চলবে। ইন্ডিয়া এখনও অনেক হাই রেটে আছে। চায়নাও হাই রেটে অছে। আমেরিকাতে সত্যি খারাপ সময় যাচ্ছে। ইলেকশনের কারণে আমরা বায়ারদের মধ্যে একটা স্লোনেস দেখতে পারছি। ছোট এবং মাঝারি ফ্যক্টরিতে এর প্রভাব পরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিম্ন প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অন্য গন্তব্যেও বাড়েনি পোশাক রপ্তানি। যে কারণে, নভেম্বরে এই আয় ছিল মাত্র ৩৮৯ কোটি ডলার। যা গেলো বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে পাঁচ শতাংশ। আর অর্থবছরের পাঁচ মাস আমলে নিলে প্রবৃদ্ধি ছিলো এক শতাংশের নিচে। আর এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে।
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামিম এহসান একাত্তরকে বলেন, আমাদের যে প্রধান মার্কেট ইউএসএ এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন দুই ক্ষেত্রেই আমরা একটা ঝামেলার মধ্যে পরেছি। এর সঙ্গে সঙ্গে চায়না ও ভারতের ওপর শুল্ক চাপ তৈরি করলো মার্কিন প্রশাসন। তখন তারা কিছুটা ইউরোপমুখী হলো। ফলে সেখানে আমাদের প্রাইস কম্পিটিশন বেড়ে গিয়েছে।
কেবল তৈরি পোশকই নয়, এই সময়ে কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশের মতো। এছাড়াও ওষুধে ৯, হোম টেক্সটাইলে আট আর পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমেছে ১০ শতাংশের মতো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট কাটাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই।
বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবীর একাত্তরকে বলেন, এই পরিস্থিতি কবে কাটবে তা আমাদের জানি না। তবে আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা যদি এ মাসের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা বাণিজ্য চুক্তি করে ফেলতে পারি তাহলে সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে। শুধু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করলে হবে না। এময় যাতে রপ্তানীকারকরা হতাশ হয়ে না পরে সেজন্য তাদের কর সংক্রান্ত বা আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদ ড.আইনুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অবস্থা সবকিছু মিলে উৎপাাদন খরচও কিন্তু বেশি। এসব করণে বাংলাদেশ থেকে সাপ্লাই চেইনটা কিন্তু মেইন্টেন করতে পারছে না।
ইপিবির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রপ্তানি হয় ২০০২ কোটি ডলারের পণ্য।
