ব্যাংক খাতে একই সঙ্গে ঘটছে দুটি বিপরীত ঘটনা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১০ পিএম

বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে একই সঙ্গে দুটি বিপরীত ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রথমত, ধারবাহিকভাবে ব্যাংকে বাড়ছে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা। কিন্তু গত তিন মাসের হিসাব বলছে, কোটিপতি হিসাবগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে জমা থাকা অর্থ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি দেখে মনে হতে পারে ধনী আরও ধনী হচ্ছে। কিন্তু আসলে বড়ো ধনীরা ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন, আর নতুন যারা কোটিপতি হচ্ছেন তাদের জমা তুলনামূলকভাবে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় জুন প্রান্তিকে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছিল পাঁচ হাজার ৯৭৪টি। আর জুন থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আরও ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। তবে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বাড়লেও তিন মাসে এসব হিসাবে জমা থাকা অর্থ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিলো এক লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। সেপ্টেম্বর শেষে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৭৩৪টি। এর আগের মার্চ প্রান্তিকে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিলো ১৬ কোটি ৯০ লাখ দুই হাজার ৬৭১টি, যা সেপ্টেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। তিন মাসে হিসাব বেড়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। 

একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট আমানত ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বেড়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে, কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও এসব হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ কমেছে। জুন শেষে কোটিপতি হিসাবগুলোর মোট আমানত ছিল আট লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষে কমে দাঁড়িয়েছে আট লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি হিসাব থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোটিপতি হিসাব মানেই ব্যক্তি গ্রাহক নন। ব্যক্তি ছাড়াও বহু প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবও কোটিপতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিলো মাত্র পাঁচ জন। ১৯৮০ সালে এই সংখ্যা হয় ৯৮ জন, ১৯৯০ সালে ৯৪৩ জন, ২০০১ সালে পাঁচ হাজার ১৬২ এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি। পরবর্তী সময়ে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২০২০ সালের শেষে কোটিপতি হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি এবং ২০২৩ সালের শেষে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি।

২০২৪ সালের শেষে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে তা ছিলো প্রায় একই পরিমাণ। জুনে বেড়ে হয় এক লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি এবং সর্বশেষ সেপ্টেম্বর শেষে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে আয়ের বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ অঙ্কের অস্থায়ী আমানত দায়ি হতে পারে। তবে জমা অর্থ কমে যাওয়া আর্থিক খাতে তারল্য চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একাত্তর/এসি
ব্যাংকের লাখ টাকার নিচের আমানত ও ঋণগ্রহীতাদের সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ কোটিপতি ঋণগ্রহীতারা দেশের প্রায় ৭৬.৬৭ শতাংশ ঋণই দখল করে রেখেছেন।
ফুটবল দর্শনের এক কঠিন ও স্নায়ুচাপের লড়াই শেষে আবারও ফুটবলের রাজসিংহাসনে বসলো স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিয়ন্ত্রণ বনাম বিশৃঙ্খলার এক ধুন্ধুমার লড়াই প্রত্যক্ষ করলো ফুটবলবিশ্ব। যেখানে লুইস দে লা...
করোনাকালে রোগীদের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া ও প্রতারণার দায়ে দেশজুড়ে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মশা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যেসব রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।...
আমদানি-নির্ভর জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশকে দীর্ঘদিন ধরে অন্য দেশের ওপর পরনির্ভরশীল করে রাখা হয়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর