বিদেশিরা কত ডলার নিয়ে গেছে, জানালেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:৩১ পিএম

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকরা তাদের আয় থেকে ১৩০.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিজ নিজ দেশে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

সোমবার জাতীয় সংসদে ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের আজাদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বছরে আয় সংশ্লিষ্ট তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত নেই। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকরা তাদের আয় থেকে ১৩০.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিজ নিজ দেশে নিয়ে গেছেন।

মন্ত্রী জানান, ভারতের নাগরিকরা ৫০.৬০ মিলিয়ন ডলার, চীনের নাগরিকরা ১৪.৫৬ মিলিয়ন ডলার, শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা ১২.৭১ মিলিয়ন ডলার, জাপানের নাগরিকরা ৬.৮৯ মিলিয়ন ডলার, কোরিয়ার নাগরিকরা ৬.২১ মিলিয়ন ডলার, থাইল্যান্ডের নাগরিকরা ৫.৩০ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ৩.৫৯ মিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের নাগরিকরা ৩.২৪ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ৩.১৭ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ার নাগরিকরা ২.৪০ মিলিয়ন ডলার ও এর বাইরে অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ২১.৯২ মিলিয়ন ডলার নিজ দেশে নিয়ে গেছেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দেশের বাণিজিক ব্যাংকগুলোর পাওনা ৫১ হাজার ৩৯১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সব চেয়ে বেশি পাওনা হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কাছে। বিএডিসির কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা,  চিনিকলগুলোর কাছে সাত হাজার ৮১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ফার্টিলাইজার, কেমিক্যাল ও ফার্মাটিসিক্যাল ইন্ডাস্টিজের কাছে সাত হাজার ২৫০ কোটি ৭১ লাখ টাকা, টিসিবির কাছে পাঁচ হাজার ১৮ কোটি ছয় লাখ টাকা, বাংলাদেশ বিমান করপোরেশনের কাছে চার হাজার ৪৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গ্রান্ড কমিশনসহ (ইউজিসি) দেশের ১৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাওনা রয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের ফরিদা ইয়াসমিন এক প্রশ্নে ৩০ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে মন্ত্রী তা জানাতে পারেননি। ফরিদা ইয়াসমিন তার প্রশ্নে দেশের ৩০ জন ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ও তাদের কাছে পাওনার পরিমাণ জানতে চান। জবাবে শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন,  আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ কেলেংকারী বন্ধে খেলাপি ঋণ গ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতাকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চিহ্নিত করা এবং ওই ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন নিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে খেলাপি ঋণ গ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতা সম্পর্কিত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সে মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এছাড়া ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার নিমিত্তে বিতরণকৃত ঋণের অর্থ উদ্দিষ্ট খাতের পরিবর্তে যাতে অন্য খাতে ব্যবহৃত না হয় এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়, তা নিয়মিত তদারকির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এসএফএস) বর্তমানে (মার্চ ২০২৪) নিবন্ধিত এজেন্টের সংখ্যায় প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার। এমএফএস গ্রাহক ২২ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে নারী গ্রাহক ৯ কোটি ৩৩ লাখের বেশি। এসএফএসসহ অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে আগের তুলনায় অনেক সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

ভোলা-১ আসনের আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাব মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৭৮৪ মার্কিন ডলার।

মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ২০০৯ হতে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে ১০ লাখ ৮৫ হাজার ১১জন নারীকর্মীসহ ৯৭ লাখ ৭ হাজার ২৫০ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স আহরণের গতি বহুলাংশে বেড়েছে। ২০০৯-১০ সালে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ হাজার ৭৫২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে সব চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

পটুয়াখালী-১ আসনের এ বি এম রুহুল আমি হাওলাদারের প্রশ্নের জবাবে আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, চলতি বছরের মে মাসের হিসাব মতে, দেশে বর্তমানে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ হাজার ১৬১ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএমএফ-এর বিপিএম৬ অনুযায়ী, এই পরিমাণ ১৮ হাজার ৬৩৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সর্বশেষ গত মার্চ মাসের তথ্যানুযায়ী গ্রস রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা রয়েছে।

কেএসএইচ
যে কোনো সময় চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার গড়ে বেতন বাড়তে পারে শতভাগ পর্যন্ত এবং প্রথম ধাপে...
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এ প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে সরকার। সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী...
ফ্যাসিস্ট আমলের নেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আগের কর্মসূচি থেকে সরে এসে জনগণের স্বার্থে নতুন করে ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে চায় নির্বাচিত সরকার। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ঋণ...
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি ও জন্মাষ্টমী শুক্রবার। ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন করে মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্যে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই...
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বাতিল হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর