রুবলে বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও লেনদেন শুরু হলে ডলারের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তবে সেক্ষেত্রে, বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতির অংকটা ভালোভাবে কষে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
দেশে আমদানি-রপ্তানির লেনদেনের সিংহভাগ এখনো মার্কিন ডলার নির্ভর। গত দেড় বছরে বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হারে এই মুদ্রাটির দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এরপরও সরবরাহ ক্রমাগত কমছেই।
ডলার নির্ভরতা কমাতে সম্প্রতি ভারতের সাথে সীমিত আকারে টাকা-রুপিতে বাণিজ্য শুরু করে বাংলাদেশ। ঠিক একই সময়ে বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের সাথে স্ব-স্ব মুদ্রায় লেনদেনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া।
তবে বিশ্বে রুবলের সীমিত রিজার্ভ আর বিশ্ববাণিজ্যের লেনদেন রাশিয়ান মুদ্রা খুব বেশি জনপ্রিয় না হওয়ায় রুবলে বাণিজ্যের কথা ভাবলে বাংলাদেশের ঠিক কতোটা লাভবান হবে, সেটাও বড় প্রশ্ন, বলছেন রাশিয়ার সাথে ব্যবসা করা ব্যাংকিং উদ্যোক্তারা।
এনআরবিসি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের রাশিয়ায় বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ও চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল বলেন, রাশিয়াতে এখন নিজস্ব একটা মার্কেট তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।
একই সাথে রাশিয়ার বেশ কিছু ব্যাংকের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাও দুশ্চিন্তার বিষয়।
এস এম পারভেজ তমাল বলেন, রাশিয়ার বেশিরভাগ শক্তিশালী ব্যাংকগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায়। তাই আমরা কীভাবে কাজ করবো তা নিয়েও ভাবতে হবে।

টাকা-রুবলে লেনদেনের সিদ্ধান্ত বুঝে-শুনে এবং সতর্কভাবে নিতে হবে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ।
তিনি বলেন, ধীরে-সুস্থে, সাবধানে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
ডলারের উপর নির্ভরতা কমাতে এমন সিদ্ধান্তকে আপাতভাবে ভালোই মনে করছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির নেতারা। তবে সফলতা কতটুকু আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. জামালউদ্দীন বলেন, এ পদ্ধতিতে ডলারে ওপর আমাদের যে খরচ সেটা কমানো সম্ভব।
তারা বলছেন, শুধু রাশিয়া নয়, যে কোন দেশের সাথে কারেন্সি সোয়াপে লাভ-ক্ষতির হিসাব ভালোভাবে না করলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
রুবলের উত্থানের নেপথ্যে পুতিনের কৌশল