গ্রামীণ ব্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসের পক্ষে বিবৃতিদাতাদের ‘কটাক্ষ’ করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান (জাপা) জি এম কাদের বলেছেন, এর জন্য জাতিকে ‘চরম মূল্য দিতে হতে পারে।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, ‘ড. ইউনূসের বিচার চলছে। আমাদের এ প্রসঙ্গে কথা নেই। বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিন্টন, বান কি মুনসহ বিশ্ববরেণ্যরা বিবৃতি দিয়েছেন ড. ইউনূসের পক্ষে। বিশ্ববরেণ্য এত নেতা একটি বিষয়ে কোনো বিবৃতি দিয়েছেন, এটা আমার জানা নেই।’
জি এম কাদের বলেন, বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের বক্তব্যে বিচার বিভাগীয় হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের বিচার-বুদ্ধি বা সততা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ বা কটাক্ষ করা হাস্যকর। তারা বিচার বিভাগীয় হয়রানির কথা বলেছেন, এটি সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখতে হবে। বিবৃতি খতিয়ে না দেখলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। বিশ্ব সমাজে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে। এজন্য হয়তো, জাতিকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’
‘বিশ্ববরেণ্য ওই সকল মানুষের বিচার, বুদ্ধি, বিবেক ও সততা নিয়ে কটাক্ষ করা বিশ্বে আমাদের হাস্যকর করে তুলছে। আমরা যদি মনে করি উট পাখির মত মাথা গুঁজে বালুতে কিছু লুকিয়েছি, আমি কাউকে দেখিনি তাই কেউ আমাকেও দেখছে না। উট পাখির মত মনে করলে চলবে না, সবাই আমাদের দেখছেন।’
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জুন অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার শ্রম আদালত। এই অভিযোগ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন ইউনূস। আদালত তা আমলে না নেয়নি। ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠি দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
এই খোলা চিঠির সমালোচনা করছে দেশের বিভিন্ন মহল। এর বিরোধিতা করে এরইমধ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সম্পাদক, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণীর মানুষ পাল্টা বিবৃতি দিচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টে সরকার সমর্থক আইনজীবীরাও একটি বিবৃতি দেয়ার জন্য সমমনা আইনজীবীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করছিলেন। সোমবার সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে রাজী হননি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভুইয়া। তা নিয়ে চলছে গত কিছুদিন ধরে চলছে আলোচনা।
জাপার সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি এইচ এম শাহরিয়ার আসিফের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন জাপা চেয়ারম্যান কাদের।
তিনি বলেন, ‘গত ২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা প্রতিবেদন করেছে, নীরবে ধংস করা হচ্ছে একটি দেশের গণতন্ত্র, কাঠগড়ায় মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ। নিউইয়র্ক টাইমসের সেই প্রতিবেদনেও বিচারিক হয়রানির কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে গণতন্ত্রহীনতার কথা বলা হয়েছে। গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। দেশের মানুষ, সরকার ও বিরোধীদলের সাথে কথা বলে নিউইয়র্ক টাইমস এই প্রতিবেদনটি করেছে। সারা বিশ্ব যে পত্রিকাকে গ্রহণযোগ্য মনে করে, আমরা তাকে মূল্য না দিলে তাতেও আমাদের খেসারত দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ধংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, সকল ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ন্যাস্ত করা হয়েছে। এটাকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি, না হলে জাতি হিসেবে বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, জহিরুল ইসলাম জহির, উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম ওমর, খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহইয়া চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আমির হোসেন ভূঁইয়াসহ অন্যলা উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি ড. ইউনূসের ওপর ভর করেছে: তথ্যমন্ত্রী