মিরপুর থেকে অপহৃত দুই শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সেই সাথে অপহরণে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও মুক্তিপণ হিসেবে দুই পরিবারকেই লাখ টাকারও বেশি দিতে হয়েছে। ডিবি পুলিশ বলছে, বাসা ভাড়া নিয়ে কৌশলে শিশুদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে অপহরণ করে চক্রটি।
বুধবার সকালে মিরপুরে দুই নম্বরে সাদমান নামের এক শিশুকে চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অপহরণ করে ভাড়াটিয়া রনি। পরে পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে লাখ টাকা দাবি করা হয়। থানা পুলিশকে জানালে সন্তানের ক্ষতি হবে এমন হুমকিও দেয়া হয়। তবে অপহরণের চার ঘণ্টার মধ্যেই সাদমানকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় মিরপুরের ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তার হয় রনি ও তার এক সহযোগী।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগে মিরপুর ১১ নম্বরে মাদ্রাসা পড়ুয়া ইয়াছিনও ১২ দিন অপহরণকারীদের হাতে জিম্মি ছিলো। ইয়াছিনের বাবা জানান, উজ্জ্বল নামে পাশের বাসায় থাকা ভাড়াটিয়া তার সন্তানকে অপহরণ করে। ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাইলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেবার পর তারা শিশুকে ফেরত পান। এই ঘটনায় এখনও মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে পলাতক অপহরণকারী জুয়েল ও তার স্ত্রী।
শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, আমার পাশের রুমেই তারা থাকতো যারা নিয়ে গেছে। দুপুর আড়াইটায় সে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে নিয়ে যায়। আমরা খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যায় ৬টার পরে সে আমাকে ফোন দেয়। বলে যে আপনার ছেলে কি মাদ্রাসায় নাকি বাসায়। আমি বললাম, না তো আমার ছেলে তো মাদ্রাসায়। আমাকে বললো যে আপনার ছেলেকে আমি নিয়ে আসছি। আপনি দুই লাখ টাকা দেবেন আপনার ছেলেকে নেবেন।
অপহরণের ঘটনায় ডিবি পুলিশ অপহৃত শিশুকে জীবিত উদ্ধারকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, বাবা–মার কাছে যখন টাকা পয়সা চাচ্ছিল তখন আমাদের ডিবির প্রত্যেকটা টিমই এটা একদিকে যেমন ক্রাইম মামলার বিষয়, অন্যদিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেহেতু স্পর্শকাতর, সেটা বিবেচনা করে পেশাগত জায়গা থেকে মূল রহস্য উদঘাটন করে ভিক্টিম যে দু'জন, দু'জনই বাচ্চা। একজন চার আরেকজন ৯ বছরের, তাদের বাবা–মার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, অপহরণকারীদের একটি চক্র শিশু আছে, ভাড়া নিচ্ছে এমন বাসা। পরে সুযোগ বুঝে করছে অপহরণ। আদায় করছে মুক্তিপণ। বাড়ির মালিকদের বাসা ভাড়া দেবার সময় অবশ্যই ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করাসহ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি রাখার নির্দেশনাও দেন হারুন অর রশীদ।
ঢামেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু