ফুটপাতের যে দেয়াল ছিলো ময়লা-আবর্জনা আর মলমূত্রের ভাগাড়। কিছু তরুণের উদ্যোগে, বর্ণে-রঙে আর ভাষার ক্যানভাসে পাল্টে গেছে সে দেয়াল। ভাষার মাসে মিরপুর ১৪ নম্বরের এমন ২১টি দেয়ালে তুলে ধরা হয়েছে দেশের নানা রকম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অজানা ভাষা।
মিরপুর ১৪ নম্বরের ফুটপাথ ও সড়ক ঘেঁষা একটি দেয়াল ছিলো ময়লা আবর্জনা আর মল-মূত্রের ভাগাড়। ছিলো চলাচলের অনুপযোগী। সেটিকেই সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব নেন এই আঁকিয়ে তরুণরা।
সড়ক ঘেঁষা দেয়ালকে ক্যানভাসে রূপ দিয়েছেন একদল তরুণ। দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতি দেখতে পাখির মতো হলেও এটি সাঁওতাল ভাষার একটি শব্দ, সীন, যার অর্থ পাখি।
গারো ভাষায় নাম্মী অর্থ ভালো। দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মুখের ভাষা রূপ পেয়েছে তরুণদের দেয়ালের ক্যানভাসে। রঙ তুলিতে দেশের নানা ভাষাকে যেমন তুলে আনা হচ্ছে, তেমনি তুলে আনা হচ্ছে বাংলার ইতিহাসও।
গুহাচিত্র থেকে চিত্রকর্ম আর তা থেকে দেয়ালচিত্র জানিয়ে কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব বললেন, আঁকাআঁকির শুরুতো সেই গুহার দেয়াল থেকেই। এখানেও আমরা দেয়ালে আঁকছি।
দেয়ালচিত্র কখনও হয়ে উঠেছে ইতিহাসের বয়ান। আবার কখনও প্রতিবাদের ভাষা। তবে এ আয়োজনটি সচেতনতার।
কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু জানালেন, হেঁটে এলে এ জায়গাটায় একটা বাঁক আছে। সেই বাঁক দেখে, একটু নিরিবিলি দেখে হয়তো মানুষ এখানে প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্ম সেরে যায়, ময়লা ফেলে যায়।
তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বরে এসে তারা জায়গাটা পরিষ্কার করে গেছেন। গত দুই মাসে জায়গাটা আবার নোংরা হয়ে গেছে। তাই পাকাপাকিভাবে নোংরা হবার আগে তারা আবার জায়গাটা পরিষ্কার ও রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি জানালেন, যে দুইটি দেয়ালের পাশে সবচেয়ে বেশি নোংরা হয়, সে দুই দেয়ালে দুইটি আয়না বসিয়ে দিচ্ছেন তারা। সাধারণত আয়নায় তো মানুষ দেখে তাকে ভালো লাগছে কিনা। কেউ আয়নার সামনে বসে মলমূত্র ত্যাগ করতে বা আয়নায় নিজেকে রাস্তা নোংরা করে ময়লা ফেলতে দেখতে নিশ্চয়ই স্বাছন্দ্যবোধ করবেন না। ফলে হয়তো মানুষের অভ্যাস বদলাবে।
দেয়ালচিত্রের জন্য তারা ২১টি দেয়াল নির্বাচন করেছেন জানিয়ে তিনি জানান, আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর যে ভাষাগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন তারা তাদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে। তারা এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন, ভাসা ভাষা ভালোবাসা।
একুশে ফেব্রুয়ারিতেও যাত্রী নিয়ে ছুটছে মেট্রোরেল