রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আবারো পেছানো হয়েছে।
রায় প্রস্তুত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে আগামী ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার নতুন দিন ঠিক করা হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ১২-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণার জন্য ধার্য ছিল।
ছাত্রী মৃত্যুর আলোচিত ওই মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত হলেন স্কুলের সাময়িক বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিনাত আক্তার।
গত ২১ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য ছিলো। ওইদিনও রায় প্রস্তুত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে আট ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। এরপর একই কারণ দেখিয়ে ফের দিন ধার্য করা করায় তিন মার্চ।
রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত বছরের ২৭ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য প্রথম দিন ধার্য করা হয়েছিলো।
২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন তার বাবা দিলীপ অধিকারী। মামলায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক। মোবাইল ফোনে নকল করেছে— এমন অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়।
দিলীপ অধিকারী তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন।
এ সময় অরিত্রী দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে বাবা-মা দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।
পরে বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষকের নামে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। অভিযুক্তদের নির্দয় ব্যবহারে অরিত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
অরিত্রীর আত্মহত্যা: দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রায় পেছালো