রমজান মাসে বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়িয়ে মাছের মূল্য ক্রেতাদের নিকট সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমান।
রোববার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গনে পবিত্র রমজান মাসে ঢাকা মহানগরের নির্ধারিত স্থানে সুলভ মূল্যে মাছ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্ববধানে প্রথমবারের মতো আসন্ন রমজান মাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪টি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪টি নির্ধারিত স্থানে মাছ বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
এসব নির্ধারিত স্থানসমূহ হলো-
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন: ১. বঙ্গবন্ধু চত্বর, খামারবাড়ি, ফার্মগেট; ২. মিরপুর-১ (ঈদগাহ মাঠ); ৩. সেগুন বাগিচা বাজার; ও ৪. মেরুল বাড্ডা বাজার; এবং
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন: ১. মুগদাপাড়া (মদিনাবাগ বাজার); ২. যাত্রাবাড়ী (দয়াল ভরসা মার্কেট); ৩. মতিঝিল (বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণার) ও ৪. পলাশী মোড়-এ এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
মন্ত্রী আরও জানান প্রতিদিন বেলা ১০.০০ ঘটিকা হতে বিকাল ৩.০০ ঘটিকা পর্যন্ত মাছ বিক্রয় কার্যক্রম চলমান থাকবে। রমজান মাসের ১৫ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন প্রতিটি স্পটে আপাতত রুই- ১০০ কেজি, তেলাপিয়া-১০০ কেজি, পাঙ্গাস- ৭৫ কেজি, পাবদা-২৫ কেজি মাছ বিক্রি করা হবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ কেজি মাছ ক্রয় করতে পারবেন। তবে চাহিদার নিরিখে মাছ বিক্রির পরিমাণ পরবর্তীতে বাড়ানো হবে।
রুই ও পাঙ্গাসের ওজন হবে ১-১.৫ কেজি, তেলাপিয়া প্রায় ৩০০ গ্রাম ও পাবদা ২০ টিতে কেজি।
প্রতি কেজি মাছের বিক্রয়মূল্য-
রুই-২৪০ টাকা, পাঙ্গাস- ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া-১৩০, পাবদা-৩৩০ টাকা
মন্ত্রী বলেন, বাজারে মাছের মূল্য বেশি। আবার চাষিরা তাদের মাছের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। চাষির পুকুর থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক মধ্যস্বত্বভোগী কাজ করেন এবং অনেকে অসাধু পন্থায় মাছের মূল্য বাড়িয়ে দেন। এসব মধ্যস্বত্বভোগী ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার সবসময় সচেষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের বিভিন্নমুখী পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে আমরা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিকে অনেকাংশে সংযত করতে পেরেছি। আসন্ন রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য যাতে সহনীয় থাকে সে লক্ষ্যে আমাদের আজকেই এই পদক্ষেপ। আশা করি পবিত্র রমজান মাসে আমাদের এই পদক্ষেপ বাজারে মাছের মূল্য সহনীয় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোঃ আলমগীর এসময় উপস্থিত ছিলেন।
