রোজায় বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়ার রেওয়াজ থাকলেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সব সময়ই উল্টো পথেই হেঁটে চলেছেন। এদেশে রমজান এলেই প্রতিদিনের শিরোনাম হয়ে উঠে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতি। কিন্তু এরমধ্যে ব্যতিক্রম আছে কয়েকজন, তাদেরই একজন মাংস বিক্রেতা উজ্জ্বল।
তাঁর এ উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোজায় ৫৯৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করায় মিরপুরের বিক্রেতা উজ্জলকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। দিয়েছেন ধন্যবাদ ও সাহস।
রোজা শুরু হতেই রাজধানীর বাজারে বাড়ছে গরুর মাংসের দাম। সরকার দাম ঠিক করে দিলেও দাম কমছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এমন পরিস্থিতিতে আলোচিত ব্যবসায়ী খলিলের মতো উজ্জ্বল মাংস বিতানের উজ্জ্বলও ৫৯৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরু করেছেন।
সকাল থেকেই, তার দোকানে মাংস নিতে ভিড় জমান ক্রেতারা। সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায়, রাজধানীর মিরপুরের উজ্জ্বল গোশত বিতানে হাজির হন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান। তাঁকে সামনে পেয়ে আপ্লুত হন মাংস বিক্রেতা উজ্জ্বল।
তাকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান ভোক্তার প্রধান। পরে তিনি বলেন, রমজানে গণমানুষের ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের প্রতি সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির আহবান জানানো হয়। বেশিরভাগ বিক্রেতাই সেটি মানছেন না। ব্যবসায়ী উজ্জ্বল সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
তিনি বলেন, নয়ন আহমেদ, খলিল, উজ্জ্বলসহ বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়েছেন যে সৎ ইচ্ছে থাকলে ভোক্তাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব।
ভোক্তা অদিদপ্তরের প্রধান বলেন, যেসব মানুষ রমজানকে প্রফিটের মাস মনে করে, যা রমজানের সাথে যায় না। তারা ৬০০ টাকা দরে মাংস বিক্রি করে যদি লোকসান না করে, তাহলে যারা ৮০০ টাকায় বিক্রি করে আমরা তাদের ধিক্কার জানাই। তাদের লজ্জা হোক যারা প্রতি কেজি মাংসে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা মুনাফার নামে মানুষের পকেট কাটছে, তাদের ধিক্কার জানাই।
সফিকুজ্জামান বলেন, যদি চামড়ার ন্যায্যমূল্য প্রদান, পরিবহনে চাঁদাবাজি সমস্যা দূর করা, ফিডের মূল্য কমিয়ে আনা, উন্নত জাতের গরু নির্বাচন, হাসিল যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার মতো কিছু কাজ করা যায়, তবে ভোক্তা পর্যায়ে ৫০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শাহজাহানপুরের আলোচিত ব্যবসায়ী খলিলের দেখানো পথে হেঁটে ৫৯৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করছেন মিরপুর ১১ নম্বরের উজ্জ্বল। প্রতিদিন প্রায় ১৫টি গরু জবাই দেন তিনি। রোজার মাসে ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে লাভ-ক্ষতির হিসাব করছেন না বলে জানান তিনি।
মাংস বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন, আমি গত ৪ মাস যাবৎ সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিকট গরুর মাংস বিক্রি করে আসছি।বছরের ১১ মাস ব্যবসা করি এই রমজানের ১ মাস ভোক্তাদের সেবায় সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করছি। সাধ্যমত এই সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস বিক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো।
প্রথম দিকে অন্য ব্যবসায়ীরা ফোনে হুমকি দিতো উজ্জলকে। তবে প্রশাসন পাশে থাকায় এখন আর কেউ ঝামেলা করছে না। উজ্জলের দোকানে আগে কর্মী ছিলো ১৫ জন। বিক্রি বাড়ায় এখন কাজ করছে ২০ জন। মিরপুরের লালমাটিয়ায় প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে তিনটা পর্যন্ত মাংস বিক্রি করেন উজ্জ্বল।
