ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ সিটি (ডিএসসিসি) এলাকায় এমন লার্ভা পাওয়া গেছে প্রায় ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ বাড়িতে। অর্থাৎ, রাজধানীর প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা আছে।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক দাউদ আদনান এই জরিপ উপস্থাপন করেন।

জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে পানি জমে থাকা ঘর বা ভবনের মেঝে, প্লাস্টিকের ড্রাম বা প্লাস্টিকের নানা ধরনের পরিত্যক্ত পাত্রে। এর মধ্যে ডিএসসিসির ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ডিএনসিসি এলাকার ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ পরিত্যক্ত পাত্রে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
১৭ থেকে ২৬ এপ্রিল উভয় সিটিতে এ জরিপ হয়। দুই সিটির তিন হাজার ১৫২টি বাড়ি ঘুরে দেখেন জরিপকারীরা।
জরিপে জানানো হয়েছে, দুই সিটির ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে। এছাড়া ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশে বহুতল ভবনে ডেঙ্গু মশার উপস্থিতি দেখা গেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ডগুলো হলো– ১২, ১৩, ২০, ৩৬, ৩১, ৩২, ১৭ ও ৩৩নং ওয়ার্ড।
আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো– ৪, ১৩, ৫২, ৫৪, ১৬, ৩, ৫, ১৫, ১৭ ও ২৩নং ওয়ার্ড।

দেশের ইতিহাসে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ও মৃত্যুবরণ করেছেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।
ভয়াবহ রূপ নিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
এডিস মশার চরিত্র বদল, চিন্তায় স্বাস্থ্য বিভাগ