মহাকাব্যে যেমন দেব-দেবীরা অভিশাপ দেয়, ঠিক তেমনই কোনো অভিশাপে দুদকের মামলায় হাজির হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত ১২ জুন অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন ধার্য করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় শুনানি। এসময় ইউনূসসহ অভিযুক্ত ১৪ আসামি মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।
শুনানির শুরুতে ইউনূসসহ সব আসামিকে লোহার খাঁচার কাঠগড়ার ভেতরে দাড়ান। মিনিট দু’য়েক পরে তাদের এজলাসের সামনে বেঞ্চে বসানোর আদেশ দেন বিচারক।
তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আসামিদের করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করেন বিচারক। পরে ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ১২ জুন দেয়া হবে বলে জানান হয়।
আদালতের এমন আদেশে ড. ইউনুসের দাবি, আক্রোশের শিকার হচ্ছেন তিনি। এসময় ড. ইউনূসসহ বাকি আসামিদের লোহার খাঁচার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সামনে ইউনূস বলেন, মহাকাব্যে দেব-দেবীরা অভিশাপ দেয়। আমিও মনে হয় এ রকম মহাকাব্যের অংশ হয়ে গেছি। কোনো দেব-দেবী আমাকে অভিশাপ দিয়েছে। আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছে। অভিশাপের কারণেই আমরা দুদকের এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, এই প্রথম লোহার খাঁচায় কাঠগড়াতে দাঁড়াতে হলো। এটা একটা দেখার মত দৃশ্য। এটা আমার জীবনের একটা স্মরণীয় ঘটনা যে লোহার খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি আদালতের কাঠগড়ায়। এ হল অভিশপ্ত জীবনের একটা অংশ।
গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে আলাদাভাবে তার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ইউনূস বলেন, আমার নোবেল পুরস্কারের কথা সবাই জানি। দুটো নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিল। একটা আমার নামে, আরেকটা গ্রামীণ ব্যাংকের নামে। দুটোরই সমান মর্যাদা। এটা যৌথভাবে দেয়া হয়েছে তাও না, দুটোই ইনডিপেন্ডেন্ট (স্বতন্ত্র)। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নজির নাই যে, এক নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে আরেক নোবেল বিজয়ী মামলা করেছে, দুদকে হাজির হয়েছে।
২০০৬ সালে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায়।
তিনি বলেন, বিষয়টা এমন হয়েছে যে, পিতা-পুত্রের সম্পর্কের মত এখানে দুই নোবেল বিজয়ী। আমার কারণে যেটা (গ্রামীণ ব্যাংক) সৃষ্টি হয়েছে, নোবেল পুরস্কার পেয়েছে; সেটাও আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে। কিন্তু তারা সেটাকে আমার বিরুদ্ধে এমনভাবে নিয়ে আসল, খুব কঠিন ভাষায়, রূঢ় ভাষায় আক্রমণ করলো।
ইউনূস বলেন, অভিযোগ থাকতে পারে কিন্তু রূঢ় ভাষায় আক্রমণ করে অভিযোগ করলো, যে অভিযোগের ভিত্তি নেই। ঘটনার মধ্যে কোনো সত্যতা তো নেই, যে জিনিস দিয়ে দিয়েছিলাম, সেটার জন্যই আমাকে অভিযুক্ত করা হল যে, অনেক টাকা মেরে দিয়েছি ইত্যাদি।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউনূসের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক।
আদালতে দুদকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এবং অভিযুক্তদের পক্ষে ব্যরিস্টার আব্দুল আল মামুন শুনানি করেন।
ইউনূস ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন– গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম, এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান।
দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ৩০ মে এ মামলা দায়ের করেন।
ইউনূস ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন– গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম, এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান।
গত ১ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। গত ২ এপ্রিল অভিযোগপত্র আমলে নেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। তিনি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
বারবার কেন বন্ধ হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?