সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী। কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে তারা শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীর মিছিলটি শুরু হয় বেলা চারটার দিকে। এরপর নীলক্ষেত সায়েন্সল্যাব হয়ে আবারও শাহবাগে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় মিছিল থেকে ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটাপ্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এমন স্লোগান দিয়ে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ করেন আন্দোলনকারীরা।
পরে মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশের মুখোমুখি হন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের উদ্দেশ্যে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগানও দেন তারা। একপর্যায়ে পুলিশ সরে যায়।
এসময় আন্দোলনকারীদের অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিলো। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিলো।
একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল বিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নিয়ে হাই কোর্টের রুল