রাজধানীর বংশালের মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অভিযান পরিচালনার উদ্যোগের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী উৎপল বিশ্বাস।
পরে আইনজীবী অনীক আর হক সাংবাদিকদের বলেন, বংশালের মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে ডিএসসিসি নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেয়। এজন্য হরিজন কলোনিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েন করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়।
মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের এ চিঠিতে স্থানীয় কাউন্সিলরকে সহায়তা করতেও বলা হয়।
এরপর বুধবার হরিজন কলোনিতে আবার অভিযান শুরুর উদ্যোগ নিলে সেখানে বসবাসরত হরিজনদের পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ সিটি করপোরেশনের অভিযানের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।
একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।
গত ১৩ জুন বংশালের মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানের ওপর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বসবাসের বিকল্প ব্যবস্থা না করে হরিজনদের উচ্ছেদ না করতে নির্দেশ দেন আদালত।
রুলে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে সিটি করপোরেশন। পরে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ দেন।
প্রায় চারশো বছর আগে এদেশে হরিজন সম্প্রদায়ের গোড়াপত্তন। মূলত অবাঙালি দলিত শ্রেণির মানুষদেরই হরিজন বলা হয়। ব্রিটিশ আমলে পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য দক্ষিণ ভারত থেকে এই দলিতদের দেশে আনা হয়। তাদের থাকতে দেয়া হয় ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং জোনের পাশে বিভিন্ন কলোনিতে।
পূর্বসূরীদের রেখে যাওয়া ঠিকানায় আজও কোনমতে টিকে আছেন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের বড় একটা অংশ থাকেন বংশালের মিরনজিল্লা কলোনিতে।
৮ ফুট ফুট বাই ৮ ফুট ছোট্ট একেকটা ঘরে কোনমতে বাস করেন হরিজনরা। সমাজের চোখে তারা এখনও অস্পৃশ্য। তাই কলোনির বাইরে মেলে না বাড়ি ভাড়া। ৩.২৭ একর জমির ২৭ শতাংশ জায়গায় একটি স্থায়ী কাঁচাবাজার করতে চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। গেলো জুন মাসের শুরুতে সেখানে উচ্ছেদ চালায় নগর প্রশাসন। ভেঙে দেয়া হয় কয়েকটি ঘর। এরপর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
উচ্ছেদ নিয়ে মুখোমুখি হরিজন সম্প্রদায় ও ডিএসসিসি