৭ অক্টোবরের বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিকে ‘জাতীয় আগ্রাসন বিরোধী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আবরারের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে আয়োজিত আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় অংশ নেয় আবরারের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। ছিলেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারাও। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম এক খুঁটি, ছাত্রলীগের অপকর্মের বলি হয়েছিলেন আবরার ফাহাদ।
স্মরণসভা শেষে আগ্রাসন বিরোধী আটস্তম্ভ পুননির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
শহীদ আবরারের স্মৃতি ধরে রাখার জন্যে পলাশীর মোড়ে ২০২০ সালে আটস্তম্ভ নির্মাণ করেছিলেন তার সহকর্মীরা। কিন্তু ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা করে সেই স্তম্ভ ভেঙে দেয়, সেসময় পুলিশ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে। স্মরণসভা শেষে সেই আটস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় পলাশীর মোড়ের সেই জায়গাতে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলন, তারা ভারতের বিরুদ্ধে নয় বরং ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর প্রতিবেশী দেশ ভারতকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারায় বুয়েটে ছাত্র আবরার।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ভারতের আগ্রাসন এই বাংলায় চলবে না।
অনুষ্ঠানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা বলেন, শহীদ আবরারের জীবনের বিনিময়ে অভ্যুত্থানের পরবর্তীতে একটা নতুন সময় এসেছে। আর যেন কোন স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে স্থান না পায়। ৭ অক্টোবরকে আগ্রাসন বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা দেবার আহ্বান জানানো হয়।
আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আবরারের পরিবারের সদস্যরাও।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আমার ছেলেকে আজকের এই দিনে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অত্যাচারের পর হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলো বলেই তাকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। আমি চাই যারা আমার ছেলের হত্যায় যারা জড়িত ছিলো তাদের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা। তাদের শাস্তি যেন কমানো না হয়। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো ভবিষ্যতে যেন আমার ছেলের মতো কাউকে জীবন দিতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে নিজের স্বার্থ নয় বরং দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বলায় জীবন দিতে হয়েছে। বিগত সরকার যথাযথ বিচার করেনি। আমি আশা করি, বর্তমান নিরপেক্ষ সরকার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে।
স্মরণসভার অনুষ্ঠানে আবরারের হত্যাকারীদের এই বাংলার মাটিতে দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবি তোলেন তার সহকর্মীরা।
২৪ হাজার ৪১৩ কোটি টাকায় ৪ প্রকল্প অনুমোদন