যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫৭তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। ১৯৬৯ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এই বাঙালি সদস্য আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই বীর শহীদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক সৈনিক। ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক আরোপিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রাখা হয়। পরবর্তীতে বিমান বাহিনী আইন (এয়ারফোর্স অ্যাক্ট) অনুযায়ী তাকে ঢাকা সেনানিবাসে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান এই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেও, তার আগেই ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী অবস্থায় পাকিস্তানি সৈনিকের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
দেশের মুক্তির লড়াইয়ে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘সার্জেন্ট জহুরুল হক হল’। এ ছাড়া ১৯৮২ সালে চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর ঘাটির নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাটি জহুরুল হক’। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বাদ মাগরিব চট্টগ্রামের বিমান বাহিনী ঘাটি জহুরুল হকের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উক্ত মিলাদ মাহফিলে ঘাটি এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
