একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশকে মিলিয়ে ফেলা আমাদের জন্য বড়ো বিপর্যয়ের কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ঠিকানা একাত্তর। স্বাধীনতা একবারই এসেছে, এর আগেও না, পরেও না। নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতন ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের বড়ো অর্জন। কিন্তু আমরা যদি এই অর্জনগুলোকে স্বাধীনতার সঙ্গে সমান করে ফেলি, তবে তা বিপজ্জনক।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ভবনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার পাশাপাশি যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিলো—সেই রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা নয় অথচ তালিকায় নাম আছে, তাদের চিহ্নিত করাও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সঠিক তালিকা বের করবো।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা গেলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আরও ভালোভাবে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে।

একই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ভবিষ্যতে তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা মহানগরের সব অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে সচ্ছল করার দায়িত্ব নেবে সিটি করপোরেশন।
তিনি বলেন, এই দেশের মালিকানা যদি কেউ দাবি করে তবে তার একমাত্র দাবিদার মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত। একটা অংশ বাদে ৯৯ ভাগ মুক্তিযোদ্ধারা অস্বচ্ছল। তাদের পুনর্বাসন করতে হবে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও প্রশাসকের পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত থেকে তাদের যুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করেন।
