দেশে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার স্টকিং, বুলিং ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো জেন্ডারভিত্তিক ডিজিটাল সহিংসতা। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা সবচেয়ে বেশি এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যুক্ত করাসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বিএনএনআরসি ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) অ্যান্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই জাতীয় পরামর্শ সভা আয়োজন করে। প্রকল্পটি ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির অংশ, যা সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী নারীদের ৮৯ শতাংশই অন্তত একবার অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিটিআরসির তথ্যমতে, গত এক বছরে কনটেন্ট অপসারণের জন্য আসা অভিযোগের ৯০ শতাংশই ছিলো নারীদের। সাইবার স্টকিং, ডক্সিং, হ্যাকিং এবং ইমেজ বেজড অ্যাবিউজের মাধ্যমে এই হয়রানি চালানো হচ্ছে।
অনলাইনে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) প্রতিরোধ ও প্রশমনে সভায় বক্তারা পাঁচটি প্রধান সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও সেবাদাতা সংস্থাগুলোর আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ভুয়া অ্যাকাউন্ট কমাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া, দেশে বিদ্যমান সাইবার আইনগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিত জানানো, দ্রুত কনটেন্ট অপসারণ ও ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার ও এলাকাভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলা।
বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী এইচ এম বজলুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার উদ্দিন এবং সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আইন থাকলেও অনেকেই আইনি সহায়তা নিতে চান না। দ্রুত প্রতিকার পেতে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. এস. এম. মোরশেদের সঞ্চালনায় সভায় বিটিআরসি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা প্রযুক্তির সহায়তায় যৌন নির্যাতন ও ঘৃণাসূচক মন্তব্য বন্ধে কঠোর হওয়ার আহবান জানান।
