ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে বর্তমানে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ও বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি তরুণ-যুবক আটকে আছেন। প্রতিনিয়ত সেখান থেকে তারা পাঠাচ্ছেন বাঁচার আকুতি। এ অবস্থায় রোববার (৭ জুন) সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরে মস্কো যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আর এই সফরকে ঘিরেই নতুন করে বুক বেঁধেছেন সর্বস্বান্ত হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা; তাদের প্রত্যাশা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কূটনৈতিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই বন্দী যুবকদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন।
স্বজনেরা জানান, উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও জাবালে নূরসহ বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি জালিয়াতির মাধ্যমে এসব যুবকদের রাশিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদের জোর করে ইউক্রেন সীমান্তে সম্মুখসমরে জড়িয়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ আটকে পড়া ৩০টি পরিবারের সদস্যরা গত এক মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সন্তানদের ফিরে পাওয়ার দাবিতে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের এই মস্কো সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে টেবিল টক-এ উঠতে পারে।
