বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি স্থগিত থাকা রেল যোগাযোগ দ্রুত চালু করার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনে রেলের বিদ্যমান রুট পরিবর্তন করে জনগণের সুবিধার্থে যোগাযোগ চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এক সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। রাজনীতি সংক্রান্ত আলোচনা আলাদা বিষয়; সে প্রসঙ্গে আজ ঢুকতে চাই না। মূল আলোচনা হয়েছে কীভাবে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়। আশা করছি, শিগগিরই মৈত্রী এক্সপ্রেসের বিষয়ে ভালো খবর দিতে পারবো। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের কল্যাণ, সেই নীতিতেই আমরা এগোচ্ছি।
২০২৪ সালের ১৬ জুলােই প্রথম মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল স্থগিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
এর তিন দিন পর অর্থাৎ ১৯ জুলাই পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির অবনতির কারণে মৈত্রী এক্সপ্রেসের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী অন্য দুটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন—বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচলও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, উভয় দেশের বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন সুদৃঢ় রেখে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
সাময়িক স্থগিত থাকা ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে নতুন সিকিউরিটি রুট নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা হবে। জনগণ যেন সর্বাধিক উপকৃত হয়, সেটি মাথায় রেখেই কার্যক্রম এগোচ্ছে।
তিনি জানান, আজকে এটি নীতি নির্ধারণী কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈঠক ছিলো না, বরং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনা হয়েছে।
