সৈকতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেন লাইফগার্ড। অথচ অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া সেই লাইফগার্ড কর্মসূচি।
আগামী বছর থেকে কর্মহীন হয়ে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ২৮ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মীর। এতে পর্যটকরা যেমন দুশ্চিন্তায়, তেমনি কর্মীদের পরিবার পড়েছে ঝুঁকির মুখে।
রুবেল- কক্সবাজারের একজন লাইফগার্ড কর্মী। উদ্ধার বোট নিয়ে ভাসেন উত্তাল সাগরে। সতর্ক দৃষ্টিতে নজর রাখেন গোসল করতে নেমে কোন পর্যটক বিপদে পড়লেন কিনা। কাউকে ডুবে যেতে দেখলেই রুবেল দুরন্ত গতিতে ছুটে গিয়ে জীবন রক্ষা করেন। চার বছরে চারজনকে মৃত্যূর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাত বছর ধরে কাজ করে আসছে সিসেইফ নামে একটি বেসরকারি লাইফগার্ড সংস্থা। সেই সংস্থারই একজন রুবেল। এই সংস্থার ২৮ জন লাইফগার্ড সমুদ্র জুড়ে থাকেন তীক্ষ দৃষ্টি আর সতর্কতায়। পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে দূরবীণ ক্যামেরায় দেখেন সমুদ্রে পর্যটকদের গতিবিধি।
সমুদ্র পাড়ে হুইসেল দিয়ে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের নিরাপদে থাকার সতর্ক করে আরেকটি দল। আরো একটি দল আছে যারা বিপদ দেখলেই ৯টি স্কি টিউব ও একটি রেসকিউ বোট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন বিপদগ্রস্ত উদ্ধারে।
২০১৪ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৩১৫ জন পর্যটককে সাগরে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন সৈকতের লাইফগার্ড কর্মীরা। জীবনরক্ষার এসব কাজ করে একটি বেসরকারি সংগঠনের কাছ থেকে তারা সম্মানি পেতেন। কিন্ত বাজেট না থাকায় সেই সংস্থা এই মুহূর্তে টাকা দিতে অপারগতা জানিয়েছে।
সিসেইফের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শফকাত হোসেন জানান, টাকা না পেলে সৈকতে পর্যটকদের উদ্ধারে নিবেদিত লাইফগার্ড কর্মী বলতে আর কেউ থাকবে না। এই অবস্থায় সংসার কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিনতায় পড়েছেন সৈকতের এই মানবিক কর্মীরা। এ অবস্থায় সরকারের তত্ত্বাবধানে অর্থায়ন চান তারা।
সৈকতে লাইফগার্ড ছাড়া উদ্ধারক্ষমতা আর কারও নেই। তাৎক্ষণিক ভূমিকা থাকে তাদের এমন কথা জানিয়ে গোটা বিষয়টি উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন পর্যটকরাও।
