সারাদেশে জেঁকে বসছে শীত। কোথাও কোথাও চলছে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। সোমবার দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়।
অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। পুরো ডিসেম্বর জুড়েই তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। আসতে পারে আরো শৈত্যপ্রবাহ।
কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে অনেক এলাকা। কিছু জায়গায় সকাল থেকে রোদের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা বেশি। উত্তরের হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই গেল দুই দিন দমকা হাওয়ায় শীতের প্রকোপ বেড়ে গেছে। একদিনেই পারদ নেমেছে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতার্ত মানুষরা বলছেন কনকনে ঠাণ্ডায় তারা জবুথবু। বেলা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমছে না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও নেই কোন উত্তাপ।
শীতের তীব্রতা বেড়ে থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। শীত নিবারণের জন্য অনেকে খড়কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
এদিকে গাইবান্ধায় সন্ধ্যা থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। উত্তরের হীমেল হাওয়ায় মাঠে যেতে পারছেন না কৃষকরা। বয়স্ক ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠাণ্ডার নানা রোগে।
আর জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার স্বল্প আয়ের মানুষ শীত বস্ত্রের অভাবে রোদ না ওঠা পর্যন্ত স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছে না।
সবচেয়ে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। চলছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। সন্ধ্যা থেকে সকাল, ঘন কুয়াশা।
সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিদিন কমছে এই তাপমাত্রা।
সন্ধ্যা নামতেই শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজন শীতের দাপটে কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত বস্ত্রের অভাবে অনেকেই কাজে যোগ দিতে পারছে না।
আবার যারা কাজে যাচ্ছেন তাদের সন্ধ্যা নামতেই বাজারের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, শীতের চোটে জীবন ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুরেও বইছে মৃদুশৈত্যপ্রবাহ। কুয়াশা কম থাকলেও হিমেল বাতাসের কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। দরিদ্র-অসহায় মানুষগুলো বিপাকে আছেন। কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুররা।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে জেলে নিহত
কনকনে ঠান্ডা বাতাসে রংপুরে শীত জেঁকে বসছে। দিনে খানিকটা সহনীয় থাকলেও সন্ধ্যার পর হিমেল বাতাসে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষদের।
তীব্র শীতে নদ-নদী বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে। শীত বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষক ও দৈনিক খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
পাবনায় শীত বাড়ার সাথে সাথে ফুটপাত গুলোতে শীতের কাপড় কিনতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। জয়পুরহাটে ঘন কুয়াশার কারণে রোদের দেখা পেতে অনেক বেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
নীলফামারীতে তাপমাত্রা দিন দিন কমছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা আরো কমে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে শীতের প্রকোপ বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বয়স্করা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ, মৌলভীবাজার, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে আপাতত শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা না থাকলেও আগামি কয়েক দিন তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
একাত্তর/টিএ
