ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ আরও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জনে।
এদিকে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি লঞ্চের বাবুর্চি শাকিলের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর লঞ্চে আগুনের ঘটনায় আরো একটি মামলা করেছেন এক নিখোঁজ যাত্রীর স্বজন।
লঞ্চ দুর্ঘটনার সময় প্রাণে বাঁচতে যারা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাদের খুঁজতে পঞ্চম দিনের মতো মঙ্গলবার সকালে অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
এরপর আটটার দিকে তিস্তাকাঠি এলাকায় এক পুরুষের মৃতদেহ পানিতে ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন। দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানায়, মৃতদেহে পোড়া ক্ষত রয়েছে। বয়স আনুমানিক ৩০-৩৫ বছর। এরপর দুপুরে উদ্ধার হয় এক কিশোরের মৃতদেহ। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে সোমবার নদী থেকে উদ্ধার হয় পুড়ে যাওয়া লঞ্চের পাচক শাকিলের মৃতদেহ। যার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর গ্রামে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরিচয় নিশ্চিতের পর সকালে মৃতদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে তার স্বজনদের কাছে।
এদিকে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হাম জালালসহ আটজন এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন এক নিহতের স্বজন।
ঝালকাঠি সদর থানা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকার ডেমরা এলাকার মনির হোসেনের লিখিত এজাহারটি গ্রহণ করে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজয়ী প্রার্থীর হামলায় পরাজিতের মৃত্যু
লঞ্চে আগুন দুর্ঘটনায় মনির হোসেন হারিয়েছেন তার বোন, ভাগ্নি ও ভাইয়ের ছেলেকে। এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি লঞ্চটির কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ আছেন অনেকেই। তবে, এই তালিকা নিয়ে পাঁচ দিনেও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাবার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, সুস্থ হয়ে উঠছেন বরিশাল মেডিক্যালে ভর্তি দগ্ধ ৩৬ জন। তিনজন আইসিইউতে থাকলেও বেশিরভাগই বাড়ি ফেরার অবস্থায় আছেন।
উল্লেখ্য, গেলো ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অবস্থানের সময় রাত তিনটা নাগাদ লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়।
পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। বেশ কিছু যাত্রীর খোঁজ এখনও মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
আগুনে পুড়ে এবং নদীতে ডুবে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লঞ্চের আরও কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক যাত্রী।
এদের মধ্যে বরিশাল মেডিক্যালে ভর্তি দগ্ধদের মধ্যে ৩৬ জন সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনজন আইসিইউতে থাকলেও বেশিরভাগই বাড়ি ফেরার অবস্থায় আছেন।
একাত্তর/এসজে
