রোগ থেকে মুক্তি পেতে যেই ওষুধ, সেই ওষুধ নিয়েও চলছে প্রতারণা। দেশের নামি কোম্পানিগুলোর ওষুধ নকল করে কুরিয়ারের মাধ্যমে তা বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতারক চক্র। ঢাকা ও চুয়াডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে অন্তত কোটি টাকা মূল্যের নকল ওষুধ।
গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন আহমেদ দর্শনার ‘ওয়েস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস’ নামের একটি ভুয়া ওষুধ কারখানার মালিক। আর মো. আলী আক্কাস শেখ পাইকারী ওষুধ বিক্রেতা।
চুয়াডাঙ্গার এক প্রত্যন্ত গ্রামে রিতিমতো নকল ওষুধ কারখানা খুলে এই প্রতারণা করে আসছিলেন গিয়াসউদ্দিন। সেখান থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এই নকল ওষুধ ছড়িয়ে দেয়া হতো সারাদেশের বাজারে।
আটা ময়দা আর মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রঙ ও রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি হতো মোনাস ১০-এর মতো ব্যয়বহুল ওষুধ, গ্যাস্ট্রিকের জনপ্রিয় ব্রান্ড পেন্টোনিক্সসহ নামী কোম্পানীর বিভিন্ন রকম ওষুধ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার নকল ওষুধের এই কারখানায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনের একটি দল। পরে ঢাকা ও চুয়াডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে কারখানার মালিকসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের নকল মোনাস১০ ও পেন্টোনিক্স।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, চক্রটি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে আয়ুর্বেদিক ওষুধ কারখানার আড়ালে নকল অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছিলো।
সহজেই যেন ভেজাল ওষুধ বাজারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য ওষুধ কোম্পানী ও ফার্মেসীগুলোকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ফার্মেসিগুলো জানে কোনটি নকল আর কোনটি আসল ওষুধ।
এই নকল ওষুধের ব্যাপারে রোগীদেরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ।
একাত্তর/জো
