নীলফামারীতে এখনও স্বাভাবিক হয়নি পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ। রোববার জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন-পেট্রোল সরবরাহ দেওয়া হলেও চাহিদার তুলনায় সেই বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। সোমবার জেলার অনেক ফিলিং স্টেশনগুলোকে পাবনার বাঘাবাড়ী থেকে অকটেন-পেট্রোল বরাদ্দ মিললেও সেই বরাদ্দ এখনও পৌঁছেনি জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে।
মঙ্গলবার (১০ মে) বিকেলে জেলা শহরের রশিদা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সহিদুল্যা বলেন, প্রায় ২০ দিন ধরে পেট্রোল এবং অকটেন সরবরাহ ছিলো না। এতে করে মজুদ শেষে দুইদিন বসে থাকার পর গত রোববার পাবর্তীপুর ডিপো থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ পাই। পেট্রোলের অভাবে অকটেনের ওপর বেশি চাপ পড়ায় সে মজুদও প্রায় শেষের দিকে।
মঙ্গলবার পাবনার বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন এবং সম-পরিমাণ পেট্রোল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেটি পরিবহনে একটা সময় লাগবে। পরিবহনে কোন ধরণের সমস্যা হলে আবারো পেট্রোল-অকটেন শূন্য হয়ে পড়বে ফিলিং স্টেশন।
ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে পেট্রোল নিতে এসেছিলেন জয় চন্দ্র দাস (৩০) নামের এক যুবক। পেট্রোল না পেয়ে অগত্যা চাহিদা মেটান অকটেন দিয়ে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে মোটরসাইকেলে পেট্রোল নিয়েছিলাম। এর মধ্যে আর প্রয়োজন হয়নি। আজকে এসে দেখি পাম্পে পেট্রোল নেই। নিরুপায় হয়ে অকটেন নিতে হলো।
একই দিন বিকেলে শহরের বাড়িয়ারমোড় এলাকায় মুক্তা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে পেট্রোল এবং অকটেনের মজুদ কম থাকায় চাহিদা মাফিক সরবরাহ করা হচ্ছে না।
সেখানে মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে এসেছিলেন এনজিও কর্মী জিকরুল ইসলাম (৪০)। তিনি বলেন, এনজিওতে মাঠে কাজ করি। এজন্য বাইক সব সময় ব্যবহার করতে হয়। পাম্পে এসে ৩০০ টাকার জ্বালানি চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ১০০ টাকার দিয়েছে।
ওই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলাম বলেন, রোববার যেটুক অকটেন-পেট্রোল সরবরাহ পেয়েছি তা দিয়ে দুই দিন চলেছে। আজকে মজুদ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় কম দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ে বরাদ্দ পাওয়া না গেলে আগামীকাল বুধবার আবারো পেট্রোল-অকটেন শূন্য হয়ে পড়বে ফিলিং স্টেশন।
একই এলাকার দেওয়ান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, গত রোববার আড়াই হাজার লিটার পেট্রোল এবং তিন হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ পেয়েছি। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সে মজুদ প্রায় শেষের দিকে। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া না গেলে ওই মজুদ শেষে বসে থাকতে হবে।
তিনি জানান, ওই ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন এক হাজার ৭০০ লিটার পেট্রোল এবং এক হাজার ৩০০ লিটার অকটেনের প্রয়োজন হয়।
জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আকতার হোসেন স্বপন বলেন, ইতিমধ্যে পেট্রোল-অকটেন ফিলিং স্টেশনগুলোতে এসে পৌঁছেছে। যা দিয়ে জেলার সকল ফিলিং স্টেশন সচল আছে। পর্যায়ক্রমে আরো পাওয়া বরাদ্দ আসছে।
জেলার ৩৬টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৭০ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২৫ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: তিস্তা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে দায়ে লাখ টাকা জরিমানা
পদ্মা ওয়েল লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. হারিছ আহমেদ সরকার বলেন, গত রোববার থেকে আমরা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। বুধবারও সকাল থেকে নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের সকল ফিলিং স্টেশনের চাহিদা মাফিক পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ করা হবে।
এদিকে জ্বালানী সরবরাহের পার্বতীপুর ডিপো ইনচার্জ এমরানুল হক বলেন, গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন লাখ ৩৫ হাজার লিটার করে অকটেন এবং পেট্রোল ডিপোতে এসেছে। যা থেকে ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাতে আরো দুই লাখ করে পেট্রোল-অকটেন এসে পৌঁছবে। সেগুলো বুধবার সকাল থেকে বিতরণ করা হবে।
একাত্তর/আরএ
