আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে সিলেট জেলায়। এরিমধ্যে বেশিরভাগ উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারার বাঁধ ভেঙে ভেসেছে কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার জনপদ।
সিলেট শহরের লোকালয়ে ঢুকেছে বন্যার পানি। ফলে মহানগরী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। পানিবন্দি হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিদিনই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সিলেট বিভাগের সবগুলো নদীর পানি এখন বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও সারিগোয়াইনের পানি উপচে পড়ছে।
ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে গত ১২ মে থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে টানা বৃষ্টিপাতে কারণে নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে।
এতে হাওর, নদী পেরিয়ে কিংবা কোথাও বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও সিলেট সদর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ হয়ে পড়েছেন পানিবন্দি।
কানাইঘাট পৌরসভা এলাকা সম্পূর্ণ প্লাবিত। গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটের সঙ্গে জেলার ও অন্যান্য অঞ্চলে বন্যাদুর্গত এলাকায় যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বন্যায় কাজ হারানো নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেকায়দায়। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের দেখা পাননি বেশিরভাগ মানুষ।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এমন আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে মাঠভরা পাকা ধান। তারা সারা বছরের খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা।
কোথাও ধানের বীজতলা ডুবেছে, কোথাও পুকুর। মানুষ পানিবন্দি হয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে খাবার পানি ও পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানিয়েছেন এরই মধ্যে ১০৯ মেট্টিক টন চাল দূর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। আরো ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়ারও আশা করছেন তিনি।
তবে এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মনে করছে আবহাওয়া বিভাগ। বন্যা পূর্বাভাস ও পুনর্বাসন কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই অঞ্চলের নদনদীর পানি হ্রাস পাবে।
একাত্তর/এআর
