অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। ফলে গত ৭ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন-যাপন করছে উপজেলার রৌমারী, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, চর রাজিবপুর ও যাদুরচর ইউনিয়নের প্রায় ৪৫ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ।
কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঘর-বাড়ির পানি স্থায়ী হওয়ায় শুকনো খাবারের সংকটে পড়েছেন অনেক পরিবার। চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসিরা।
গত ৭ থেকে ৮ দিন ধরে এই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সরাসরি ভারত থেকে নেমে এসেছে জিঞ্জিরাম, কালো ও ধরণী নদী। এই তিন নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি হওয়ায় কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজীবপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যা।
রৌমারী টু ঢাকা সড়কের পূর্ব অংশে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পশ্চিম অংশে ব্রহ্মপুত্র, হলহলিয়া ও সোনাভরি নদী রয়েছে বন্যা সীমার অনেক নিচে। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বিচ্ছিন্ন এই দুই উপজেলার একটি অংশের মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ভোগান্তি।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের খেয়ারচর গ্রামের দিনমজুর নজির হোসেন বলেন, বন্যার কারণে কাজে যেতে পারছি না। চরম কষ্টে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
বকবান্ধা ব্যাপারী পাড়া গ্রামের গৃহিণী নাজমা বেগম (৩৮) জানান, বন্যায় বাড়িঘরে পানি ওঠেনি। কিন্তু সব সবজি ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। এখন রান্নার সবজি কেনা লাগবে। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। কারণ আমার স্বামী কাজেও যেতে পারছে না।
খেয়ারচর রাবার ড্যাম এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, জমিতে খড় পরে আছে। ঘাসও পানিতে ডুবে আছে। আমরা গরু-ছাগল-ভেড়া নিয়া বিপদে আছি।
খেয়ারচর ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, আমার ওয়ার্ডের ৬ শতাধিক বাড়িঘরে পানি উঠেছে। লোকজন কোথাও বের হতে পারছে না। এখন পর্যন্ত পানিবন্দী লোকজন কোন সরকারি সহযোগিতা পায়নি।
রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দু্ল্লাহ জানান, জনপ্রতিনিধিদের বন্যা কবলিত এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে দুর্গতদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তবে রৌমারী ল্যান্ড পোর্ট পানিবন্দী হওয়ায় এই পোর্টের সাথে জড়িত ৫ থেকে ৬ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে। তাদের বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে। যাতে তারা সহযোগিতা পান।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জিঞ্জিরাম, কালো ও ধরণী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে রৌমারী ও চর রাজীবপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পরেছে।
আরও পড়ুন: মামাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ভাগ্নের ফাঁসি
বন্যায় তলিয়ে গেছে ৩০ কিলোমিটার কাচা-পাকা সড়ক। পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও ২৮৩ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আশরাফুল আলম জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ পাওয়া ৩ লাখ টাকা দিয়ে শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি, চিনি, লবন ও মোমবাতি কেনা হচ্ছে। দ্রুতই বন্যা কবলিতদের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হবে।
একাত্তর/আরএ
