রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আনছের মাঝির পাড়ায় পিঠা ও মাংস খেয়ে একই গ্রামের ১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সকলে বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আনছের মাঝির পাড়ায় আব্দুল প্রামাণিক তার বাড়িতে ধানের খড় পালা (স্তূপ) দেয়ার জন্য গ্রামে ৭ জন লোক ও বাড়ির ৮ জন লোক মোট ১৫ জনকে নিংগারা বা কাজে নেয়। তারা শুধু তার বাড়িতে খড়ের পালা দিয়ে দেবে। তাদের কোন টাকা-পয়সা দিতে হবে না। তাদেরকে শুধু পিঠা ও মাংস খাওয়াতে হবে।
এ শর্তে কাজ শেষে শনিবার রাতে আব্দুল প্রামানিকের বাড়িতে সবাইকে পিঠা মাংস খাওয়ানো হয়। পিঠা-মাংস খাওয়ানো পর থেকে একে একে সবার পেটে ব্যথা শুরু হয় পরে পাতলা পায়খানা ও বমি হতে থাকে। তারা এলাকার ফার্মেসী থেকে পাতলা পায়খানার ঔষধ কিনে খেতে থাকেন, তাতে কোন কাজ না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে ১৫ জনই গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
আব্দুল প্রামাণিকের ছোট ভাই মনির হোসেন বলেন, আমার মেজ ভাই আব্দুল প্রামাণিক তার বাড়িতে আমার চাচাতো ভাইদের ও গ্রামের ৭ জনকেসহ ১৫ জনকে নিংগারা (কাজে) নেয় ধানের খড় পালা দেয়ার জন্য। তারা সবাই শনিবার সারাদিন খড়ের পালা দিয়ে দেয়। রাত ৯টার দিকে সবাই একত্র হয়ে চিতই পিঠা, ফার্মের মুরগির মাংস, ভাত, ডাল খেয়ে যার যার বাড়িতে চলে যায়। রাতেই তাদের পেট ব্যথা করতে থাকে তারপর পায়খানা ও বমি হতে থাকে সকালে খাওয়ার স্যালাইন ও পায়খানা বন্ধর ট্যাবলেট খেয়ে কোন কাজ না হওয়ায় আজ সকালে সবাই এসে হাসপাতালে ভর্তি হই।
হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনর্চাজ মুক্তা সরকার বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- যে ঘরে সবাই খেয়েছে তারা পায়খানা থেকে এসে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার না করে ওই হাত দিয়েই পিঠার গুড়ার চাল মাখিয়েছে। তাছাড়া যারা খেয়েছেন তারাও যথাযথভাবে হাত পরিষ্কার করেননি।
আরও পড়ুন: পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ
গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসক ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, একই গ্রামের ১৫ জন লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে। তাদের খাদ্য ও পানি বাহিত কারণে ডায়রিয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত গরমে ও অতিরিক্ত ঠাণ্ডা জনিত কারণেও ডায়রিয়া হতে পারে।
একাত্তর/আরএ
