নোত্রকোনার কলমাকান্দায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উব্দাখালী, মঙ্গলেশ্বরী, গণেশ্বরী, মহেষখলা, মহাদেও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদি টানা বৃষ্টি ও পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকে, তাহলে উপজেলার সড়কসহ নিচু এলাকায় পানি উঠার সম্ভাবনাসহ বন্যার আশঙ্কা করছেন কলমাকান্দাবাসী।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকাল ছয়টায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া এই পাহাড়ি ঢলের পানিতে কিছু এলাকায় প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ। আর এই পানিতে বেশ কয়েকটি পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী খারনৈ ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভেঙে গেছে বাউসাম আয়শা (রা.) কওমি মাদ্রাসাসহ দুটি ঘর। গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন কাঁচাসড়ক ভেঙে গিয়ে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। এছাড়াও বড়খাপন ইউনিয়নের বড়ইউন্দ বাজারের হাওর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় বাজারটি হুমকির মুখে রয়েছে। আগবগজান, চৈতা, পাগলা, দক্ষিণ রানীগাও, নাগডড়া, নানীয়া, কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন জানান, বেশকিছু বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পানি থাকায় শিক্ষার্থীদর উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। এছাড়াও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ায় নজর রাখতে বলা হয়েছে।
বিশরপাশা এলাকার মৎস্যচাষি গকুল চন্দ্র সাহা জানান , ঢলের পানিতে তার দু’টি পুকুরের প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আরও তিনটি পুকুর পাড়ে জাল টানিয়ে কোনোরকমে মাছ ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কলমাকান্দার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমদ জানান, এ উপজেলায় ঢলের পানিতে ১১৫টি পুকুর তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিমাপক মোবারক হোসেন একাত্তরকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা ছয়টায় কলমাকান্দা উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর ডাকবাংলো পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যদি টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি নদীর ঢল অব্যাহত থাকে তাহলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে।
একাত্তর/জো
