এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি সিলেটের বহু দুর্গত এলাকায়। বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায়, চরম বিপর্যয়ে দিন পার করছেন পানিবন্দি মানুষ।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পাঁচটি গ্রাম ঘুরেও দেখা গেছে তিন বেলা খাবার পাচ্ছেন না অনেকে। আশ্রয়কেন্দ্রেও ঠিকঠাক সুবিধা পাচ্ছেন না মানুষ।
সিলেট জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় চরম বিপর্যয়ে দিন পার করছেন পানিবন্দি মানুষ। অনিশ্চিয়তা, শঙ্কা আর ভয়ে কাটতে প্রতিটি মুহূর্ত।
গোয়াইনঘাটের বন্যা কবলিত একটি এলাকায় ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎই কান্নার শব্দ পায় এই প্রতিবেদক। ভাষাহীন, স্তব্ধ বানভাসি মানুষ। কান্নার শেষ কোথায় জানা নেই।
কয়েকটি পরিবার জীবন বাঁচাতে এসেছিল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে। সেখানেও জুটছে না তিনবেলা খাবার।
অথচ ঘরেও খাবার নেই, তাই এই চার যুবকের যুদ্ধ বুক সমান পানির সাথে। যে কোন মূল্যে পৌঁছাতে হবে বাজারে।
গেলো সাত দিন ধরে ছাদের একটি ঘরে বন্দি ৩০ জন মানুষ। দুপুর ১১টায়ও চুলায় ওঠেনি হাড়ি। গেলবারের বন্যাতেও মেলেনি ত্রাণ।
এবারও একই অবস্থা গোয়াইনঘাট উপজেলার রায়খাল গ্রামের মানুষের। এমন চিত্র পায় সেখানকার সব জনপদেই।
আরও পড়ুন: সিলেট শহরে কমছে পানি, বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল
ঘরের ধান চাল নষ্ট হয়েছে গোয়াইনঘাটের আঙ্গারজুন গ্রামের পাঁচটি পরিবারের। চুলা জ্বলছে না সাতদিন। প্রশাসনও পৌঁছায়নি সাহায্য নিয়ে।
এমন পাঁচটি গ্রামে খাবার সংকটের পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। থৈ থৈ পানিতে শিশুদের জীবনও হুমকির মুখে, বলছেন বানভাসি মানুষ।
তবে সরকার বন্যা মোকাবেলায় হাজার হাজার টন ত্রাণ দিলেও কেন ভুক্তভোগীরা তা পাচ্ছেন না তার জবাব নেই কারো কাছে।
একাত্তর/এসি
