মোংলায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহত গৃহবধূর স্বামীকে।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত বর্ণালী (২০) পৌর শহরের শ্রমকল্যাণ সড়কের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা এনামুল খাঁনের ছেলে মহসিন খাঁন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সকালে ঝগড়া-ঝাটি করে মহসিন স্ত্রী বর্ণালীকে ঘরে আটকে রেখে চলে যান। এরপর সকাল ১০টার দিকে মহসিন তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন আনার জন্য বর্ণালীর ছোটভাই জুবায়ের হোসেন মারুফকে ওই ঘরে পাঠান। মারুফ ঘরে ঢুকে বর্ণালীকে রান্নাঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে মাকে খবর দেয়।
বর্ণালীর পরিবারের অভিযোগ, মহসিনের আগের এক স্ত্রী আছে। তারপরও চার মাস আগে বর্ণালীকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে করে মহসিন। বিয়ের পর থেকে মহসিন প্রায়ই বর্ণালীকে মারধর করতো।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসিফ ইকবাল ও মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণালীকে বিয়ে করার কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি মহসিন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশ মহসিনকে গ্রেপ্তার করে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রোববার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীনিবাস থেকে বেরোবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসিফ ইকবাল বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এটি আত্মহত্যা, কারণ শরীরের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারপরও এ ঘটনা নিয়ে পরিবারসহ এলাকাবাসীর ভিন্ন ভিন্ন মত থাকায় অধিকতর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/এসজে
