গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের কুষ্টিয়া পাম্প স্টেশনে দুটি পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে গত বছরের মতো চলতি মৌসুমেও আমন ধানসহ অন্য ফসলে সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে চলতি খরিপ-২ আমন মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলার সাড়ে আট হাজার হেক্টরসহ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় এক লাখ হেক্টর আমনের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কয়েক লাখ কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
সেই সঙ্গে সংস্কারের অভাবে অনেক সেচ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এসব খালে বিগত ১০ বছরেও পানি না দেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকের।
কৃষকের অভিযোগ, সেচ খালের পানি না পেয়ে বেশি দামে তেল কিনে সেচ দেওয়ায় আবাদ খরচ বেশি হচ্ছে।
কৃষকের আরও অভিযোগ, ফসলের মাঠে সেচ না পেলেও এক শ্রেণির মানুষ দলীয় দাপটে জিকে খালের পানি চুরি করে মাছ চাষ করছে।
তবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাছ চাষের কথা অস্বীকার করলেও আমন মৌসুমে পাম্প নষ্ট ও সেচ খাল অকেজো থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে আগামীতে কৃষকের সেচ সুবিধার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে কৃষক জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা যায়, ১৯৫৪ সালে প্রায় চার লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দিতে জিকে সেচ প্রকল্প চালু করা হয়। ২০০৫ সালে স্থাপন করা তিনটি পাম্প দিয়ে বছরে ১০ মাস (১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ) দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পানি উত্তোলন করা যায়। বাকি দুই মাস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাম্প তিনটি বন্ধ রাখা হয়। তিনটি পাম্প সচল থাকলে চার জেলার ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৪৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল ও ৯৯৫ কিলোমিটার প্রশাখা খালে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়। আর সেচ প্রকল্পের প্রধান এবং শাখা খালগুলোতে পানি থাকলে এখান থেকে কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পান। তিনটি পাম্প একসঙ্গে চালু থাকলে প্রতি সেকেন্ডে তিন হাজার ৯০০ কিউসেক পানি আবাদি জমিতে দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু মাত্র বর্তমানে মাত্র একটি পাম্প সচল ও দুটি অচল হয়ে পড়ে আছে।

চুয়াডাঙ্গাসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে শুকনো মৌসুমে সেচের আওতায় এনে ইরিগেশন করে এলাকার কৃষিকে সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জিকে) চালু করা হয়।
কিন্তু এ প্রকল্পের সফলতা শুরুতে কৃষকরা পেলেও ক্রমেই এর কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমেও সেচের অভাবে একদিকে যেমন কৃষকরা জিকের সেচ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত, অপরদিকে যারা এখনও সেচের অধীনে আছে তারা থাকে দোভরসায়। জিকের সেচ না পেয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় সেচ দিতে কৃষক প্রতি বছরই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: জোয়ারে ভাসছে দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূল
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সেচ ব্যবস্থা নিয়মিত না হলে চলতি মৌসুমে আমন আবাদসহ সকল ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হবে।
একই কথা বলেছেনে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ্রী বিভাস চন্দ্র সাহা।
একাত্তর/এসি
