বাগেরহাট বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আট হাজারের বেশি মাছের ঘরে ভেসে গেছে। অনেকে ঘেরের পার মাটি দিয়ে উঁচু এবং জাল দিয়েও শেষ পর্যন্ত চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ রক্ষা করতে পারেনি। জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘের ডুবে চাষীদের তিন কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে চাষীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় ৬৯ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে ৭৭ হাজার ৬৫৭টি মৎস্য ঘের রয়েছে। মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত চাষীর সংখ্যা ৬২ হাজার।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল জানান, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি আর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদরে ৫০০টি, মোংলায় দুই হাজার, রামপালে দুই হাজার, মোড়েলগঞ্জে দুই হাজার, কচুয়ায় ৫০০টি এবং শরণখোলায় এক হাজার মাছের ঘের ডুবে গেছে। এসব ঘেরের চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ ভেসে তিন কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য ঘের ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীর সংখ্যা সাত হাজার।
প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।
মোংলার মাছ চাষী ফণীভূষণ বিশ্বাস বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে তার এবং তাদের আশেপাশে অধিকাংশ মাছের ঘের ডুবে গেছে। এসব ঘেরের উপর দিয়ে এক ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। তাদের কয়েক লাখ টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ ভেসে গেছে।
জেলা মাছ চাষী সমিতির সভাপতি সুমন ফকির জানান, মাছ চাষীদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। চিংড়ি শিল্প বাঁচাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে পাঁচ দিন ধরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে বৃষ্টি ঝরছে। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদর, রামপাল, মোংলা, শরণখোলা, কচুয়া এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টা পর্যন্ত মোংলায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।
এদিকে বৈরি আবহাওয়ায় সুন্দরবনসহ উপকূলে আশ্রয় নেওয়া জেলেদের আবারও সাগরে ফিরতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: মাদরাসায় শিশু বলাৎকার, চার শিক্ষক গ্রেপ্তার
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলারচর ফরেস্ট ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ মজুমদার জানান, বুধবার জোয়ারের সময় সুন্দরবনে পানি প্রবেশ করেনি। এর আগে তিন দিন সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া জেলেরা ট্রলার নিয়ে আবারও সাগরে মাছ ধরতে ফিরে যাচ্ছে।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমরেশ চন্দ্র ঢালী জানান, স্থল নিম্নচাপটি বর্তমানে ভারতের মধ্যে প্রদেশের মধ্যে অঞ্চল ও পাশের এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও দুর্বল হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে পারে।
একাত্তর/এসি
