সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত আট জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। তাদের পরিবার জানিয়েছে, সাত দিন জিম্মি থাকার পর তারা এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। তবে মোংলা থানা পুলিশের দাবি, তারাই ওই জেলেদের উদ্ধার করেছেন।
ওই আট জেলেরা হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটার বুজবুনিয়া গ্রামের মৃত জহুর শেখের ছেলে মো. আকরাম শেখ (৪২), বুজবুনিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম খান (৩৫), খুলনার রূপসার আলাইপুর গ্রামের ওলি শিকদার (৪৮), বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের বখতিয়ার ব্যাপারী (৩৫), মোংলার দক্ষিণ হলদিবুনিয়া গ্রামের আনিস শেখ (২২), একই গ্রামের মিলন শেখ (২৩), বৈদ্যমারী গ্রামের শুকুর আলী ব্যাপারী (৩০) এবং একই গ্রামের মনির ব্যাপারী (৩৬)।
অপহৃত জেলেদের সঙ্গে থাকা জেলে ফারুক খান বলেন, আট জন দস্যু তাদের অপহরণ করে। এসময় তাদের কাছে দুইটি পাইপগান, ছয়টি রামদা ও বেশ কিছু দেশি মোটা লাঠিসহ দুইটি ডিঙি নৌকা ছিল।
দস্যুদের কাছে এখনও আরও ৩০/৩৫ জন জেলে জিম্মি রয়েছেন বলেও জানান ফারুক।
মুক্তি পাওয়া কয়েকজন জেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, জেলেরা গত ১৩ ডিসেম্বর সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে যায়। তারা সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কার্যালয় থেকে বৈধ পাস পারমিট নিয়েছিল। ওই দিন একদল বনদস্যু তাদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালায়। মারধর, জেলে নৌকার মাছসহ অন্য মালামাল লুটে নেয়ার পাশাপাশি প্রতি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তারা জানান, দস্যুদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণের এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পেয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জেলেদের বনবিভাগের হরিণটানা টহল ফাঁড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বুধবার সকাল আটটার দিকে হরিণটানা টহল ফাঁড়ির ট্রলারে তারা চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে আসে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে মোংলা থানা পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে যায়।
এদিকে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, পুলিশই ওই জেলেদের উদ্ধার করেছে।
আরও পড়ুন: শত মহাসড়কের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনে দস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন শরণখোলার চার জেলে। তারা হলেন- সোনাতলা গ্রামের মো. সালাম ফরাজী, ইমাম খান, সলেমান খান ও ইউসুব হাওলাদার।
১৪ ডিসেম্বর রাতে বনের অরমল খাল থেকে দস্যুরা তাদের অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে না পাড়ায় বনের মধ্যে তাদের ছয় দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং নৌকার মাছ দস্যুদের দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাকি টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে দস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়।
একাত্তর/এসি
