বগুড়ায় শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ ওরফে হেলাল ও তার স্ত্রী, সন্তানদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আলাদা তিনটি মামলা হয়েছে।
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বাদি হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন- তার প্রথম স্ত্রী মোছা. হেলেনা পারভীন ও ছেলে হোসাইন হাবীব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮০ সালের দিকে সামছুদ্দিন শেখ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ একজন শ্রমিক ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুক্ত হন আওয়ামীপন্থী শ্রমিক রাজনীতিতে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁর কপাল খুলে যায়। বগুড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাড়া জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের পদ পান তিনি।
দুদকের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, মামলায় হেলালের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও এক কোটি দুই লাখ টাকার বেশি সম্পদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী আবে জম জম ওরফে নাজীর কাছে স্থানান্তরের অভিযোগও করা হয়েছে দুদকের মামলায়।
দুদকের এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, হেলালের প্রথম স্ত্রী হেলেনা পারভীন জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে দুই কোটি ৪১ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৩ টাকা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে তার দেয়া সম্পদ বিবরণীতে ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৯ টাকা ভিত্তিহীন হিসাব দেন তিনি।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় চোরাই ২৯ গাড়িসহ চক্রের ১৮ সদস্য গ্রেপ্তার
একইভাবে হেলালের ছেলে হোসাইন হাবীবের বিরুদ্ধেও দুই কোটি ৮০ লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৯ টাকা অবৈধ আয় অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পায় দুদক।
জানতে চাইলে সামছুদ্দিন শেখ হেলাল বলেন, মামলার বিষয়টি জানা নেই। আমার কাছে সম্পদ বিবরণী চাইলে দেওয়া হয়েছিল। আর আমার সকল আয়ের নিয়মিত কর দিয়ে আসছি। তারপরও তারা কিভাবে অবৈধ আয় বলছেন, জানি না।
একাত্তর/এসি
