বগুড়ার আদমদিঘিতে অনুষ্ঠিত হল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা।
শুক্রবার উপজেলার চড়কপাড়া গ্রামে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
চড়কতলা গ্রামের পূজা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ কুমার জানান, এদিন বৈশাখের প্রথম দিন হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ছিল চৈত্র সংক্রান্তি। চড়ক পূজায় একজন লোককে বড়শি গেঁথে চড়কে ঘুরানো হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন শারীরিক কষ্টের মাধ্যমে পুণ্য লাভ করা যায়, তাই এমন মেলা পূর্বপুরুষের আমল থেকে হয়ে আসছে।
চড়কতলা গ্রামের সাবেক জমিদার পুত্র সত্যেন নিয়োগী জানান, চড়কতলায় প্রায় আড়াই বিঘা জমি তাদের দান করা। সেখানে পাশাপাশি নির্মিত কালী মন্দির, শিব মন্দির, শীতলা মন্দির, বৃক্ষশ্বরী মন্দির এবং মহলদার মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে প্রায় ৭০০ বছর পূর্বে থেকে চড়ক পূজা উপলক্ষে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
চড়ক পূজায় তান্ত্রিক মন্ত্র পরিচালনাকারী চড়কতলা গ্রামের সন্ন্যাসী মদন বিশ্বাস জানান, চৈত্র সংক্রান্তি ঘটস্থাপন পূজা করে পূজার কার্যক্রম শুরু করার পর ফুলভাংগান পূজা, নাগরাকাটা পূজা, কালী পূজা ও ভড়ন খেলা, শশ্মান খেলা, বৃক্ষস্বরী পূজা, মহালদার পূজা, শিতলা পূজা, শিব পূজা সহ পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ চৈত্র সংক্রান্তি শুক্রবার সকালে চড়ক গাছে পূজা করা হয় এবং বিকেল চারটার সময় লম্বা গাছের খুঁটিতে বাঁশ বেধে দড়ি ঝুলিয়ে চড়ক গাছ তৈরি করে মানুষের পিঠে বড়শি ফুটিয়ে চড়ক ঘুরানো হয়।
আরও পড়ুন: অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি কামনায় মুখোশ নাচ
পহেলা বৈশাখের দিনে এমন আয়োজন এলাকায় আনন্দের ঢল নামে। পূজা উপলক্ষে এলাকায় বসে দিনব্যাপী মেলা। মেলাতে স্থান পেয়েছে মাটি কাগজের নানা প্রকার খেলনা। এছাড়া খাবার, কসমেটিকসের দোকানে বেচাকেনা চলে রাত পর্যন্ত। ঢাক ঢোলের বাজনায় মেলা প্রাঙ্গণে পূজার সাথে গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে কিশোররা। শিশুদের নাগরদোলাসহ নানা খেলনায় মেলা প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর।
একাত্তর/জো
