কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মধ্যম মাঝিগাছা গ্রামে মাহিন মিয়া (২০) নামে এক যুবককে ডেকে এনে মারধর করেন প্রেমিকার বাবা ও চাচা। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৭ মে) দুপুরে মারা যান যুবকটির। এদিকে সন্তানের মৃত্যুর কথা শুনে মাহিনের তার বাবা হিরন মিয়াও (৫০) মারা যান। এ ঘটনার পর প্রেমিকার বাবা ও চাচাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
র্যাব মেজর সাকিব জানান, ঘটনার পর মামলার ৪ ঘণ্টার মধ্যে গত ৭ মে রাতে কোতয়ালী মডেল থানা এলাকা থেকে মামলার এক নম্বর আসামি মধ্যম মাঝিগাছা ফুল মিয়ার বাড়ীর মৃত রঞ্জু মিয়ার ছেলে রওশন মিয়া ওরফে মুজা মিয়া (৪০) ও এজাহারনামীয় দুই নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার মধ্যম মাঝিগাছা গ্রামের রোশন মিয়া ওরপে মুজা মিয়ার মেয়ে তন্বী আক্তারের সাথে স্থানীয় চা দোকানদার হিরন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মাহিনের প্রায় এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক চলমান ছিল। কিন্তু মেয়ের পরিবারের পক্ষ হতে তাদের এ সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। যার ফলে মেয়ের পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় মাহিনকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
গত ৪ মে রাতে মেয়ের বাবা রওশন মিয়া ওরফে মুজা মিয়া ও মেয়ের চাচা জাহাঙ্গীর আলম ভিকটিম মাহিনকে ডেকে এনে বেধড়ক মারধর করেন। এসময় তারা মাহিনের মাথায় ও বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ভিকটিম মাহিনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও ছাড়পত্র প্রদানের পর গত ৫ মে মাহিনের পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে রেখে সেবা করতে থাকে। গত রবিবার (৭ মে) দুপুরে মাহিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের লোকজন পুনরায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা হিরন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানানোর সময়ই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। তাৎক্ষনিক পরিবারের লোকজন তাকেও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: নতুন এক গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
এ ঘটনা জানাজানি হলে, মেয়ের বাবা-চাচা ও পরিবারের লোকজন বাড়িতে তালা মেরে আত্নগোপনে চলে যায়। এদিকে মাহিনের মা রজিনা বেগম গত ৭ মে রাতে বাদি হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব ১১ উপ পরিচালক মেজর সাকিব বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মেয়ের বাবা ও তার পরিবারের লোকজন মেয়ে তন্বীর সাথে নিহত মাহিনের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। এরই প্রেক্ষিতে মেয়ের বাড়ির লোকজন প্রাথমিকভাবে মাহিনকে বারবার তাগাদা দিলেও মাহিন তার প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। তাই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মাহিনকে অমানুষিক নির্যাতন করে মর্মে দায় স্বীকার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
