তৃতীয় দফায় পিছিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে কম খরচে ঢাকায় আম পরিবহনের জন্য ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালু হচ্ছে আগামী ৮ জুন থেকে। এদিন বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ এই ট্রেনের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী।
সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২৫ মে ট্রেনটি চালুর ঘোষণা দেয়া হলেও আমের স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে ৭ জুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ হিসেবে ২ জুন ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
তবে, মন্ত্রী নিজে এসে ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন তাই আবারও পিছিয়ে বৃহস্পতিবার চালুর সিদ্ধান্ত হয়। আম মৌসুমের অনেক পরে ট্রেনটি চালু হওয়ায় এর সুফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রেলওয়ে সুত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে বিকেল ৪টায় ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। নাচোল স্টেশনে পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, নিজামপুরে রেলস্টেশনে ৪টা ৪০ মিনিটে, আমনুরা জংশনে বিকেল ৫টায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ৬টায়, আমনুরা বাইপাস ও কাঁকানহাটে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।
এসব স্টেশন থেকে ঢাকায় আম পরিবহনে ব্যবসায়ী ও চাষিদের খরচ হবে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩২ পয়সা। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৭টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ৭টা ৫৩ মিনিটে সরদহ রোড, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে আড়ানি, ট্রেনটি আব্দুলপুরে পৌঁছাবে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে।
ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। মাঝে জয়দেবপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে আম বুকিং করার জন্য দাঁড়াবে। ট্রেনটি তেজগাঁও পৌঁছাবে রাত ১টা ১৫ মিনিটে। আর এসব স্টেশন থেকে ঢাকায় আম পরিবহনে ব্যবসায়ীদের গুনতে হবে ১ টাকা ১৭ পয়সা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওবাইদুল্লাহ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে পথে আরও একটি রেলস্টেশনে থামবে ট্রেনটি। ওইসব স্টেশন থেকে আম নিয়ে ট্রেনটি রাত ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাড়ার নির্দিষ্ট কোনও সময়সূচি প্রশাসন বেঁধে না দিলেও, মে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন জাতের গুটি আম এবং জুন মাসের প্রথম দিন থেকেই ক্ষীরশাপাত আম বাজারে ব্যাপকহারে নামতে আরম্ভ করেছে। ইতোমধ্যে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা আম কেনা এবং জেলার বাইরে পাঠানো আরম্ভ করেছেন। তাই ট্রেনটি অন্তত ১ জুন থেকে চালু করলেও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন বলে বলছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবগঞ্জ উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার জানান, তিনি গত ২ জুন ও ৩ জুন একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ৯ মণ আম পাঠিয়েছেন। আমের মৌসুমের শুরুতেই শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমের জন্য তাগাদা দেয়ায় এবং মৌসুমের শেষের দিকে আমের দাম বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই আমগুলো কিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ট্রেনটি আগে চালু হলে কম খরচে তার মত অনেকেই আম পাঠাতে পারত। দেরিতে ট্রেন চালুর ফলে সরকারও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মতামত তার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটি রাজস্ব ঠিকমত পেলে সরকার যেমন লাভবান হবে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে। কিন্তু প্রতিবছরই ট্রেনটি সময়মত চালু না হওয়ায় লোকসানে পড়ছে।
আরও পড়ুন: সোমবার থেকে বাজারে আসছে বিদেশি পেঁয়াজ
তিনি বলেন, গত বছর চালুর সাতদিনের মাথায় লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেনটি। এ বছরও দেরিতে চালু হওয়ায় জেলার শতকরা ২০ ভাগ আম ইতোমধ্যেই পরিবহন সম্পন্ন হয়ে গেছে। তাই রেল কর্তৃপক্ষ মৌসুম শুরুর আগেই ট্রেনটি চালু করলে একদিনে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং ট্রেনটি চালু রাখতে সরকারের সদিচ্ছা থাকবে, অন্যদিকে জেলার ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে রাজধানীগামী ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটি চালু হয় ২০২০ সালের ৫ জুন। ওই বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চলা ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহন হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২ কেজি। এতে রাজস্ব আয় হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫৮ টাকা।
দ্বিতীয়বারের মতো ২০২১ সালের ২৭ মে ট্রেনটি চালু করা হয়। সেই বছর আম পরিবহন করা হয় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭৩ কেজি। রাজস্ব আদায় হয় ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা।
সর্বশেষ গত বছর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৫ কেজি আম পরিবহন করা হয়। এতে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৪ টাকা আয় হয়েছিল।
একাত্তর/এসজে
