মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করার দাবিতে সমাবেশ করেছেন উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার ১০টি ও টেকনাফের তিনটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
সমাবেশে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতন নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ চলাকালীন সময়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছেন। যার জন্য রোহিঙ্গারা কৃতজ্ঞ। এখানে ছয় বছর ধরে ক্যাম্পে বন্দি জীবন যাপন করছি। আমরা দ্রুত মিয়ানমারে নিজ ভিটায় ফিরতে চাই।
দ্রুত স্বদেশে ফিরে যেতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা দাবি করে টেকনাফের জাদিমুড়া শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা বজলুল রহমান বলেন, ‘আমরা আর বাংলাদেশে থাকতে চাই না। দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং চলাচলের স্বাধীনতাসহ নিজ গ্রামের ভিটেমাটি ফেরত দিলে এই মুহূর্তে চলে যাব মিয়ানমারে।’
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (উপ-সচিব) খালিদ হোসেন বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গারা দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। সেখানে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া দাবি জানিয়ে রোহিঙ্গারা কয়েকটি দাবি তোলেন।
এদিকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘আমরা আর শরণার্থী জীবন চাই না। সামনের দিনগুলোতে আমরাও আমাদের জন্মভূমি আরাকানে জীবন যাপন করতে চাই। বিশ্ব সম্প্রদায় আমাদের দেশে ফেরার ব্যাপারে যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।’

এছাড়া ডব্লিউএফপি, ইউএন কর্তৃক মাথাপিছু খাবারের জন্য বরাদ্দ কমানোর বিষয়ে রোহিঙ্গারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতন শুরু করে। তখন সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই এখানে ছিল আরও কয়েক লাখ নিপীড়িত রোহিঙ্গা।
আরও পড়ুন: বেনাপোলে ককটেল বিস্ফোরণে দেয়াল ধস
দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সমালোচনা করে রোহিঙ্গারা বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের নামে মায়ানমার সরকার বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করছে। তারা আগের মতো ইউএনএইচসিআর ডাটা কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।
একাত্তর/এসজে
