আলোচিত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাধুর পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। একই সঙ্গে অন্য তিন আসামির মধ্যে দুই আসামিকে চার দিন ও এক আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে জামালপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানভীর আহম্মেদ ভিন্ন মেয়াদে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন- জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালেরবার্ত্তী গ্রামের রেজাউল করিম ও একই এলাকার মনিরুজ্জামান মনির। এছাড়া আসামি জাকিরুল ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বাদি পক্ষের আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোহেল রানা আদালতে সোপর্দ করা বাবু চেয়ারম্যানসহ চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিভিন্ন মেয়াদে তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। আজ থেকেই এ রিমান্ড শুরু হবে।
এ হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রত্যেকের ভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে একই আদালতে ৯ আসামির মধ্যে চার জনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তারা হলেন- বকশীগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকার মো. গোলাম কিবরিয়া সুমন (৪৩), মালিরচর নয়াপাড়া এলাকার মো. মিলন (২৫), নামাপাড়া এলাকার মো. তোফাজ্জল (৪০) ও একই এলাকার মো. আইনাল হক (৫৫)।
এছাড়া যে পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন- বালুগ্রাম সাধুরপাড়া এলাকার মো. কফিল উদ্দিন (৫৫), দক্ষিণ কুতুবের চর গ্রামের মো. ফজলু মিয়া (৩৫) ও মো. শহিদ (৪০), মোল্লাপাড়া মসজিদপাড়া গ্রামের মো. মকবুল (৩৫), সর্দারপাড়া মেরুরচর গ্রামের মো. ওহিদুজ্জামান (৩০)।
নাদিম হত্যায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে শনিবার বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী মনিরা বেগম।

উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বকশীগঞ্জ পৌরসভার পাটহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম। সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে তার ছেলেসহ একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিক নাদিমের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। রাত দেড়টার দিকে তাকে জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে মারা যান নাদিম।
এ হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে দেশের সাংবাদিক সমাজসহ সুশীল মানুষ। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নাদিম হত্যার মূলহোতা বাবু চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পঞ্চগড় থেকে গ্রেপ্তারের পরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে নেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নির্দেশে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন মুদ্রনীতি ঘোষণা, বাড়লো সুদহার
র্যাব জানায়, সম্প্রতি বাবুর অপকর্ম নিয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক নাদিম। এ নিয়ে বাবু তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়াসহ করেছিলেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও। কিন্তু সেসব কিছুই ধোপে টেকেনি। শেষমেষ ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাবু।
নাদিম জামালপুরের বকশীগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের সংবাদ সংগ্রাহক এবং নিউজ পোর্টাল বাংলা নিউজের প্রতিনিধি ছিলেন।
একাত্তর/এসি
