ভারতীয় চিনি চোরাচালানের অন্যতম রুট হয়ে উঠেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট। চোরাই পথে ছোট ছোট নৌকা করে আসছে ভারতীয় চিনি। ট্রাকে করে সেই চিনি নেয়া হচ্ছে সিলেট সদরে।
এসব চোরাই চিনি ফ্রেশ ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে সিলেট থেকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। চোরাচালন থেকে বস্তা বদল, সবই চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।
সীমানাজুড়ে রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়। পাহাড়ের উঁচু-নিচু জঙ্গলঘেরা কাটাতারের ফাঁক দিয়ে বানের পানির মতো ভারতীয় চোরাইপণ্য দেশে প্রবেশ করছে।
ভারতীয় চিনি, কসমেটিক্স ও শাড়ি বাংলাদেশের ক্রেতাদের প্রচণ্ড চাহিদা। তাই চোরাকারবারিরা সীমান্তবর্তী সিলেট জেলা পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে দিচ্ছে এসব পণ্য।
সেই খবর সংগ্রহে একাত্তর গিয়েছিলো গোয়াইঘাটে। দেখা যায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি অটো। একাত্তরের টিম কাছে যেতেই দৌঁড়ে পালিয়ে যায় বেশকজন কিশোরের একটি দল।
অটোতে টর্চের আলো ফেলতেই দেখা মেলে বস্তার পর বস্তা ভারতীয় চিনি। গুনে দেখা গেলো ৫০ কেজি ওজনের মোট ৯টি বস্তা। যা আনা হয়েছে তামাবিল সীমান্তের চোরাই পথ দিয়ে।
তবে অবাক করা তথ্য হলো নলজুরি মানে যেখানে অটোতে ভারতীয় চিনি পাওয়া গেলো, সেটি তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ৫০০ গজের মধ্যে।
তামাবিল ফাঁড়িতে যেয়ে পুলিশ ডেকে আনার সময়টুকুতে চিনি বোঝাই অটো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে চোরাকারবারীরা। পরে অটোটি থামানো গেলেও পালিয়ে যায় চালক।

পুরো ঘটনাটি যারা দেখছিলেন তাদের অনেকেই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। পাছে পাচারকারীরা তাদের উপর হামলা করে, এই ভয়ে।
আরও পড়ুন: হিলিতে কাঁচা মরিচে দাম কেজিতে কমলো ২০০ টাকা
শনিবার (২৪ জুন) রাত পৌনে ৯টার এই ঘটনার পরও থেমে থাকেনি নলজুরি দিয়ে চিনি পাচার। প্রতি রাতেই এই পথে ভারতীয় চিনি ঢুকছে সিলেট সদরে।
ভারতীয় লেবেল লাগানো চিনির বস্তা বদল করে নতুন বস্তায় ভর্তি করার পর সেখান থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর হাত ধরে তা পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশে।
একাত্তর/এসি
