বগুড়ায় বিএনপির পদযাত্রা থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এসেছে। পুলিশের দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির মিছিল থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশের ছোঁড়া ছররা গুলিতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটায় বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়ার মোড়ে এবং পরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইয়াকুবিয়া মোড় থেকে সাতমাথা অতিক্রম করতে চেয়েছিল। এদিকে সাতমাথায় চলছিল আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তাদের সাতমাথার দিকে না যেতে অনুরোধ জানায়। এখান থেকেই সংঘর্ষের শুরু হয়।
সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশকে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়তে হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুপুরে পদযাত্রাটি শহরের ইয়াকুবিয়ার মোড়ে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা সাতমাথার দিকে যেতে চান। এতে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপি'র নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল এবং হাতে থাকা লাঠি নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলামসহ ১০ জন আহত হন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এর কিছুক্ষণ পর শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলের কিছু নেতাকর্মী বিএনপির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালান। এ সময় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। থেমে থেমে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সেখানে পুলিশ কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এসময় শহরের সাতমাথা থেকে ইয়াকুবিয়া স্কুল পর্যন্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া শহরের আরো কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ ও বিএনপির সংঘর্ষ হয়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইয়াকুবিয়া মোড় থেকে সাতমাথা অতিক্রম করতে চেয়েছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ চলছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তাদের সাতমাথার দিকে না যেতে বলে। এতে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা করা হয়। পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। আত্মরক্ষার জন্য পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ইয়াকুবিয়ার মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করার কথা। পদযাত্রা নিয়ে সরাসরি সাতমাথায় যাওয়ার কোনো অনুমতি ছিল না। তারা পদযাত্রা নিয়ে সাতমাথায় যেতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা নবাববাড়ি সড়কে সদর ফাঁড়িতে হামলা চালায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে।
একাত্তর/এআর
