ভারী বৃষ্টি-ঢলে পাহাড়ে বিপর্যয়

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩, ১০:১১ এএম

ছয়দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধস, পানীয় জলের সংকট, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা।

পার্বত্য জেলা বান্দরবান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক। পাহাড়ি ঢলে জেলা শহরসহ রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে জেলা ও উপজেলা শহরের সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, হাটবাজার। প্লাবিত হয়েছে রাঙামাটির নিম্নাঞ্চল। খাগড়াছড়ির নদনদীগুলোর পানি বেড়ে যাওয়ায় ডুবে গেছে বিভিন্ন এলাকা।

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে ভূমিধস

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। এদিকে সাজেকে আটকা পড়েছে ২০০ পর্যটক। তাদের উদ্ধারে তৎপর রয়েছে সেনাবাহিনী।

টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটি ও এর বিভিন্ন উপজেলায় ভূমিধস চলছে। মঙ্গলবার ভোরে জেলার সিভিলসার্জন বাংলো এলাকায়, একটি পাহাড়ের অংশ চারটি বাড়ির ওপর ধসে পড়ে।

পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করে। ঝুঁকিতে থাকা আরো ৬টি পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এদিকে ভারী বর্ষণে সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, রাজস্থলী ওবিলাইছড়ি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোশাররফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে। মানুষজনকে নিরাপদে রাখতে আমরা আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি। প্রায় ১২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।’

তীব্র স্রোতের কারণে কর্ণফুলি নদীতে বন্ধ হয়ে গেছে ফেরি চলাচল। সড়কে পাহাড় ধসে যোগাযোগ বন্ধহয়ে গেছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে দীঘিনালা উপজেলা হয়ে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৬৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, যা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম।

এদিকে বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়েছে। পানির প্রবাহ ভালো থাকায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ১৬ কিলোমিটার বলপেইয়া আদম এলাকায় ধসে পড়েছে পাহাড়। ফলে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। ওদিকে সাজেকে আটকা পড়েছে২০০ পর্যটক। তাদের উদ্ধারে তৎপর রয়েছে সেনাবাহিনী।

বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তার বলেন, ‘মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কে কয়েকবার পাহাড়ধস হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে।’

এদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শালবন-খাগড়াপুর, কুমিল্লা টিলা, সবুজবাগ, কলাবাগানএলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

বিচ্ছিন্ন বান্দরবান

পানিতে ডুবে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বান্দরবানের সদর উপজেলা। এই উপজেলার ৮০ শতাংশএলাকা এখন পানির নিচে। নেই বিদ্যুৎ ও মোবাইল ইন্টারনেট। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির।

লাগাতার বৃ‌ষ্টির কার‌ণে ডু‌বে‌ছে বান্দরবানের বে‌শিরভাগ নিম্নাঞ্চল। বৃ‌ষ্টি না থামায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাত থে‌কে জেলা শহ‌র বিদ্যুৎ বি‌চ্ছিন্ন র‌য়ে‌ছে। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। ভারী বর্ষণের ফ‌লে পাহাড় ধ‌সের আশঙ্কাও জেগেছে। বিপৎসীমার ওপর‌ দি‌য়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে সাঙ্গু নদীর পা‌নি। প্লা‌বিত এলাকা ও পাহাড় ধ‌সে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য খোলা হয়েছে ১৯২‌টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর ম‌ধ্যে সদ‌রেই খোলা হ‌য়ে‌ছে২৪‌টি আশ্রয় কেন্দ্র।

সড়কে পানি ওঠায় রোববার সকাল থেকে বান্দরবান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার,খাগড়াছড়ির পথে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া জেলা শহর থেকে রোয়াংছড়ি, রুমাও থানচি উপজেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর জেলা প্রশাসক কার্যালয়, সদর উপজেলা কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিসিয়াল কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন অফিস, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিসে হাঁটু পানিতে তলিয়ে আছে।

টানা বৃষ্টির কারণে বান্দরবান শহরের ৬০ ভাগ প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ১৯২ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং লামায় ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৮১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে পাহাড় ধসে প্রায় ৪৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সাড়ে ৯ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড় ধসে একজন রোহিঙ্গার প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের মধ্যে দুজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাওয়া আলীকদম উপজেলা নয়াপাড়া ইউনিয়নের মো. মুছা (২২) নামে এক যুবকেরলাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রিংও পাড়ার বাসিন্দা মেমপই ম্রো (৩০) ঢলে ভেসে নিখোঁজ রয়েছেন।

খাগড়াছড়িতে নদীর পানি বাড়ায় দুর্ভোগে মানুষ

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নদ-নদী গুলোতে পানি বেড়েছে। জেলার চেঙ্গী ও মাইনি নদীর তীরবর্তীনিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, খবংপুড়িয়া, বাঙ্গালকাটি,বটতলী, কালাডেবা এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মাইনী নদীর পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের প্রায় চার শতাধিক পরিবার আটকা পড়েছেন।

খাগড়াছড়ির মুসলিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ২০টির মতো পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়াদীঘিনালার পাঁচটি কেন্দ্রে একশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহ আলম বলেন, ‘পানি বাড়তে থাকায় আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। সেজন্য খাগড়াছড়ি পৌর এলাকায় প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রিতদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক শহিদুজ্জামান জানান, জেলা সদরে ১০টি ও সকল উপজেলায় একটি করে আশ্রয় কেন্দ্রখোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য আমা পর্যাপ্ত মাইকিং করেছি। সবউপজেলা নির্বাহী অফিসার, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাবেন তাদের জন্য খাবারেরব্যস্থা করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, পৌর এলাকায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছে প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার।


একাত্তর/কেএসএইচ

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢল কমায় নীলফামারীতে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি।
টেকনাফের গহীন পাহাড়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে অপহরণের শিকার নারী ও শিশুসহ ৩৯ জন উদ্ধার এবং দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়।
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। দুই একদিনের মধ্যে বিপৎসীমা পার হবার শঙ্কা রয়েছে।
আদিবাসী, উপজাতি নাকি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী; পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরও গেলো দেড় যুগেও পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের বিতর্কটাই শেষ হয়নি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই স্নায়ুক্ষয়ী মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাতে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের মুকুট মাথায় তুললেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচ জুড়ে বোতলবন্দি করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের মুকুট মাথায় তুলেছেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে স্পেনের ট্রফি উদযাপনের রাতেই বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো আরও এক সোনালী ইতিহাস। রোববারের সেই রক্তক্ষয়ী ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলে হারিয়ে...
নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম মহাযজ্ঞের অবসান ঘটল এক চরম নাট্যমঞ্চের মধ্য দিয়ে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর