নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ গ্রুপের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতরা বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। নিখোঁজদের তালিকায়ও এ সংখ্যা বেশি। অভিযোগ উঠছে কম টাকায় শিশু শ্রমিক পাওয়া যায় বলেই এই কারখানায় বে-আইনিভাবে শিশু শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) আগুন লাগার পর ওই কারখানায় আটকা পরা শ্রমিকদের অভিভাবকরা ছুটে আসেন কারখানার সামনে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের যেই স্বজনরা নিখোঁজ রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বয়সই ১৮ নিচে। বেশিরভাগই ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কম টাকায় শিশু শ্রমিক পাওয়া যায় বলে তারা বেশিরভাগই শিশু শ্রমিক নিয়োগ দিতো। কয়েকবার প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়নি।
আরও পড়ুন: পুড়ে যাওয়া ৫০ মরদেহ উদ্ধার, অধিকাংশই শিশু
নারায়ণগঞ্জের সিপিবি সভাপতি দাবি করেন, কারখানাটিতে নিয়োগ অধিকাংশই শিশু শ্রমিকই বেআইনিভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি তার সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় যথাযথ বিচার দাবি করেন।
অপরদিকে শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আজ বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানব-বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন।
অভিযোগের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পরিচয় মেলেনি কোনো মরদেহের, করতে হবে ডিএনএ টেস্ট
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধার করা হয়েছিল আরও ৩ জনের মরদেহ।
একাত্তর/আরএ
