খাগড়াছড়ির গুইমারা এলাকায় প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা মূল্যের গাঁজাগাছ ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গুইমারা ইউনিয়ন থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা চৌধুরীপাড়ায় এ গাঁজা ক্ষেত ধ্বংস করা হয়।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী, গুইমারা থানার ওসি মো. আরিফুর আমিনসহ পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যুগ্মভাবে পরিচালিত এক অভিযানে এই বাগান ধ্বংস করে।
জেলার পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তারা অভিযান এই দুর্গম এলাকায় অভিযান করেন। সেখানে ৩০২৫টি গাজা গাছ ছিল। সেখান থেকে কমপক্ষে ৩০ হাজার কেজি গাঁজা তৈরি হতো ধারণা করা হচ্ছে। যার আনুমানিক বাজার মুল্য ত্রিশ কোটি টাকা।
গুইমারা থানার ওসি আরিফুর আমিন জানান, এলাকাটি দুর্গম, ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। গাঁজা চাষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনি কার্যক্রম চলছে।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযানে গুইমারার দুর্গম এলাকায় দুই একর গাঁজা ক্ষেত উদ্ধার করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গাঁজা ক্ষেত ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ত্রিশ কোটি টাকার বেশি।
পুলিশ জানায়, খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা থানা এলাকার লোকালয় থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চৌধুরীপাড়া নামক স্থানে দূর্গম পাহাড়ী এলাকার মধ্যে সাড়ে তিন একরের বেশি পরিত্যাক্ত ভূমিতে তিন হাজার পঁচিশটি গাঁজা গাছ খুঁজে পায় যৌথবাহিনী। গাছগুলোর মোট ওজন ৩০,২৫০ কেজি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ত্রিশ কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা।

খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মুক্তা ধর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাগড়াছড়ি থানার দূর্গম পাহাড়ের গহীণ জঙ্গলে সুপরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিশাল এলাকা নিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজার চাষাবাদ করছে। তার নির্দেশনায় স্থানীয় থানা এই অভিযান পরিচালনা করে।
উপস্থিত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুল আলম জব্দকৃত গাঁজার মধ্যে ১৫ কেজি গাঁজা নমুনা আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করে বাকি ৩০,২৩৫ কেজি গাঁজা ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

