রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার ফলে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। যা একদিকে বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। তবে চাষিরা বলছেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা পেলে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়বে।
ষাটের দশকে বিশাল জলাশয় নিয়ে তৈরি হয়েছে কাপ্তাই হ্রদ। এই হ্রদই এখন মাছের অন্যতম এক উৎস। যা হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, গুছিয়েছে জীবন। তবে মাছের প্রজনন বাড়াতে বছরের মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
এই তিন মাস সময়কেই কাজে লাগাচ্ছেন স্থানীয় মাছ চাষিরা। আধুনিক পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেছেন তারা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে সফলও হয়েছেন।

পাহাড়ের মাছ চাষিরা জানান, অল্প সময় ও কম খরচে নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে বন্ধ মৌসুমেও উপার্জন করছেন তারা। তবে সরকারি প্রণোদনা পেলে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়বে এবং প্রান্তিক চাষিরা মাছ চাষে আগ্রহী হবেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পানির ব্যবহার নিশ্চিত এবং মাছ আহরণ বন্ধের সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য এটি একটি যুগোপযোগী প্রযুক্তি।
লংগদু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহসান বলেন, আমাদের লেকে যতটুকু পানি আছে, পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং মাছ ধরা যখন বন্ধ থাকে সেসময় মৎস্যজীবীরা যদি ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করতে পারে তাহলে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, সঠিকভাবে চাষ করতে পারলে একটি ১৮ ঘনমিটার আকৃতির মাছ খাঁচায় ৪ মাস চাষ করে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।
মধ্যরাত থেকে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা