কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণাসহ শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম জরুরি সিন্ডিকেট মিটিং শেষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও বিকেল পাঁচটার মধ্যে হল ছাড়ার ঘোষণা গণমাধ্যমে আসার পরপরই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে শুরু হয়ে উপাচার্য বাংলো পর্যন্ত এসে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বাংলোতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। বাধ্য হয়ে প্রক্টরিয়াল বডি নিজেদের তালাবদ্ধ করেন প্রক্টর কার্যালয়ে।
এসময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা, 'ধিক্কার ধিক্কার প্রশাসন ধিক্কার, হল আমরা ছাড়ছি না, হল কারো বাপের না' বলে স্লোগান দিতে থাকে।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সামনে আসলে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তিনটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য বলেন। দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে, বাস সেবা, বিদ্যুৎ, ওয়াইফাই আগের মত সচল রাখতে হবে।
এই দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা হলের প্রভোস্টদের সাথে কথা বলেছি। তারা শুধুমাত্র প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে। যারা থাকতে চায় তারা থাকতে পারবে। এছাড়া আরও যেসব দাবি করা হচ্ছে সেগুলো আমরা আমাদের উপাচার্য ও সিন্ডিকেট মেম্বারদের জানাবো।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার বিষয়ে পাঁচ হলের প্রভোস্টের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় চার মামলা
ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ
হল ছাড়া নিয়ে কঠোর বার্তা