কোটা আন্দোলনে ভর করে নরসিংদীতে কারাগারে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটপাট ও আট শতাধিক আসামি ছিনতাই করেই ক্ষান্ত হয়নি নাশকতাকারীরা। হামলা-ভাঙচুর-আগুনের শিকার হয়েছে ৯টি সরকারি দপ্তর।
এছাড়াও হামলা হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধির কার্যালয়। প্রাথমিকভাবে নরসিংদীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছে জেলা প্রশাসন।
নরসিংদীতে সবচেয়ে ভয়াবহ নাশকতা ঘটে গত ১৯ জুলাই। কারাগার থেকে হাইওয়ে থানা অথবা পুলিশ ফাঁড়ি। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা কার্যালয়। ডাকঘর, কৃষি বিপণন কার্যালয় এমনকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান; সব কিছুতে হামলা হয়েছে। দেয়া হয়েছে আগুন।
নরসিংদীর ইটাখোলা থেকে মাধবদী পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় চলে এই নৈরাজ্য। ছাত্রদের আন্দোলনের কাঁধে ভর করে দুর্বৃত্তদের নাশকতায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা আর যানবাহন।
ওইদিন কারাগারে হামলা চালিয়ে লুটে নেয়া হয় ৮৫টি অস্ত্র। আট শতাধিক বন্দী পালিয়ে যায়। যাদের মধ্যে ৯জন জঙ্গি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া কারাগার ভবন। বাংলাদেশ আগে কখনো এ রকম ঘটনা দেখেনি।
নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ আবার ব্যক্তিগত অফিস, বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক উদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধি।
এদিকে হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও একযোগে হামলা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন নরসিংদীর পুলিশ প্রশাসন।
আর জেলা প্রশাসন এখন চেষ্টা চালাচ্ছে, সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পাশাপাশি সেগুলোকে আবার সচল করার।
সরকারি-বেসরকারি অফিস ও স্থাপনায় হামলা-ভাংচুর, আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১টি। আর শনিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ২৩৪ জন।
শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
শ্রীলঙ্কা স্টাইলে গণভবন দখলের ষড়যন্ত্র ছিলো: কাদের