ফেনীতে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগবালাই। বিশেষত ঠাণ্ডা ও পানিবাহিত নানা রোগে ভুগছে দুর্গত এলাকার মানুষ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফেনীর হাসপাতালগুলোও পানির নিচে। আছে বিদ্যুতের অভাব। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। আপাতত জেনারেটর ও চিকিৎসকদের হেলিকপ্টার সুবিধা দিয়ে ফেনীতে নিয়ে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়েছে বিমান বাহিনী।
ফেনীর বন্যাদুর্গত এলাকায় সরেজমিনে ঘুরতে গিয়ে এই প্রতিবেদক দেখতে পায় এক মাসেরও কম বয়সী এক শিশুর নিউমোনিয়া মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দরকার জরুরি চিকিৎসা। কিন্তু বন্যাকবলিত ফেনীতে সেই সুযোগ কোথায়? এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে বিমান বাহিনী।

হেলিকপ্টারে তাকে নেওয়া হয় ঢাকায়। কিন্তু এতো ছোট শিশুর নাকে দেয়ার মত অক্সিজেন মাস্ক নেই। তাই টানা ৪৫ মিনিটের যাত্রায় একহাতে শিশুটিকে কোলে নিয়ে, আরেক হাতে তার নাকে অক্সিজেন ধরে রাখেন কর্পোরাল মাসুদ। আর এভাবেই জরুরি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বিমান বাহিনী।
ফেনীর ছাগলনাইয়াতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন, অনেকে রয়ে গেছেন নিজ বাড়ির ছাদে কিংবা উঁচু কোন ভবনে। বন্যার পানি কমে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে সবার জন্যই নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে পানিবাহিত রোগবালাই। পেটের পীড়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন সেখানকার মানুষরা।

সুপেয় পানির অভাব ও নোংরা-দুর্গন্ধযুক্ত পানির স্পর্শ বাড়াচ্ছে ডায়রিয়া, চর্মরোগ বিভিন্ন রকম পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। ছাগলনাইয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবিরের চিকিৎসকরা জানালেন, ডায়রিয়ার পাশাপাশি অনেকের মধ্যেই স্ক্যাবিস ধরনের চর্মরোগ ধরা পড়ছে, যা ছোঁয়াচে।
ফেনীর সিভিল সার্জন শিহাব রানা জানান, পানিবাহিত বিভিন্ন ধরনের রোগ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ডায়রিয়ার রোগী। ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেও একই চিত্র দেখা যায়।
৮০ শতাংশ ডুবে যাওয়া ফেনীর হাসপাতালগুলো পূর্ণ কার্যক্ষম না হওয়ায় অনেকেই ছুটছেন বিমান বাহিনীর এই অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে। এই ক্যাম্পে চিকিৎসা সহায়তা দিতে দফায় দফায় চিকিৎসক, ঔষধ, বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের জোগান দিচ্ছে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে।
বন্যায় বিপর্যস্ত গুজরাটে নিহত ৩৫, রেড এলার্ট জারি