চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতভর বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে জমির পাকা, আধাপাকা ধান। কৃষি বিভাগ বলছে, গত ১০ বছরে একদিনে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
এর আগে গেলো শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিক থেকে জেলায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সদরে ২৬০ মিলিমিটার, শিবগঞ্জে ১৭৫ মিলিমিটার, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিলিমিটার, নাচোলে ১৭৫ মিলিমিটার ও ভোলাহাটে ১৬৫ মিলিমিটার। জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯১ মিলিমিটার। এতে মাঠে থাকা আমন ধান, সরিষা ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, আর এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতো ধান কাটা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। নিম্নাঞ্চলের খেতগুলোতে পুরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি- আগে যে সব জমিতে বিঘাপ্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছিলেন, সেখানে হয়ত ৫ মণের বেশি পাবেন না।
সদর উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার আমন ধান চাষি আসাদ উল্লাহ বলেন, আমার দুই বিঘা জমির ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়ে অধিকাংশ ধান শেষ হয়ে গেছে। আশা করেছিলাম বিঘায় ২০ মণ করে ধান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিঘাতে ৫ মণের বেশি পাবো না। আরেক চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা কল্পনাও করিনি যে এই সময়ে এসে এত বৃষ্টি হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী জানান, গত ১০ বছরের একদিনে এত বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃষ্টিতে জেলার চার হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, সরিষা, বিভিন্ন সবজি, পেঁয়াজ, মাষকলাই, ভুট্টা, স্ট্রবেরী।
এদিকে রাতভর বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায়। শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, নিউ মার্কেট, বড় ইন্দারামোড়, স্কুল-ক্লাব রোডসহ শহরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়।
পাঁচ দফা দাবিতে অনড় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
২০২৬ সালের নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু